জঙ্গলের রাস্তায় একা পেয়ে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছিল কয়েকজন যুবক। সেই ভিডিও তুলে রেখেছিল মোবাইলে। কিন্তু জানা ছিল না, নিজেদের মধ্যে ভিডিও চালাচালি করতে হয় কী ভাবে। দোকানে সেটাই করাতে গিয়ে প্রকাশ্যে এল ঘটনা। অভিযোগ দায়ের হল। বিজয় মাহাতো নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করল বোরো থানার পুলিশ। শুক্রবার পুরুলিয়া আদালতে তার ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে থানায় এই অভিযোগ দায়ের হয়। রাতেই গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত যুবককে। তবে ঘটনাটি আরও কিছুদিন আগের— ৩০ জানুয়ারি বিকেল। নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর দাবি, ভিন্‌ গ্রামে কাজ সেরে জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে সে ফিরছিল। সন্ধ্যা নামছে। গ্রামের কাছেই জঙ্গল। সেখানে দাঁড়িয়েছিল জনা পাঁচেক যুবক। তাদের মধ্যে এক জন ওই ছাত্রীর পরিচিত। বাকিরাও মুখ-চেনা।

ছাত্রীর অভিযোগ, ওই যুবকেরা মত্ত ছিল। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে তাকে অশ্লীল ইঙ্গিত করা হয়। পা চালিয়ে জায়গাটা পেরিয়ে যাচ্ছিল সে। কিন্তু দুই যুবক জোর করে টেনে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময়ে জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে কয়েকজন যাচ্ছিলেন। ছাত্রীর চিৎকার শুনে তাঁরা ছুটে এলে অভিযুক্তেরা পালিয়ে যায়।

ওই ছাত্রী ভয়ে বাড়িতে কিছু বলেনি। তার বাবা কর্মসূত্রে বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ফিরে একটি ভিডিওর কথা জানতে পারেন।

আসলে, মাঝের সময়ে ঘটে গিয়েছে বেশ কিছু। ওই যুবকদের এক জন শ্লীলতাহানির ভিডিও তুলে রেখেছিল মোবাইলে। সম্প্রতি একটি দোকানে গিয়ে সেই ভিডিও সঙ্গীদের মোবাইলে ভরে দিতে বলে। দোকানদার সেটা করেন, তবে ভিডিও-র একটি কপি নিজের কম্পিউটারেও রেখে দেন। বিষয়টি জানান গ্রামের সিভিক ভল্যান্টিয়ারদের। মুখে মুখে খবর চলে যায় ছাত্রীর বাবার কাছে। তিনি সদ্য বাড়ি ফিরেছেন। মেয়েকে জিজ্ঞাসা করতে সে সব খুলে বলে।

থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। গ্রেফতার করা হয় বিজয়কে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও দেখে বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে থানায় গিয়েছিলেন ভারত জাকাত মাঝি পারগণা মহলের সদস্যরা। তাঁদের পক্ষ থেকে সুরজিৎ সিংহ হাঁসদা বলেন, ‘‘এই জঘন্য অপরাধের জন্য দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।’’