রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ফের আর্থিক অসহযোগিতার অভিযোগ তুললেন শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। কলকাতায় গিয়ে তিনি পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছিলেন। বরাদ্দ মিলবে বলে আশ্বাস মিলেছে বলেও জানিয়েছিলেন। মেয়রের অভিজ্ঞতা, আলোচনা শেষে পুরমন্ত্রী তাঁকে দরজা পর্যন্ত এগিয়েও দিয়েছিলেন। সে সব দেখে ইতিবাচক বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু আখেরে কয়েক মাস অপেক্ষা করেও টাকা মেলেনি। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর তাই নাগরিক সভা করে রাজ্যের তরফে শিলিগুড়ি পুরসভাকে প্রাপ্য বরাদ্দ না-দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।

মেয়র বলেন, ‘‘সব মিলিয়ে প্রায় ৩৩৩ কোটি টাকা পুরসভার প্রাপ্য রয়েছে রাজ্যের কাছে। বরাদ্দ চেয়ে পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বললে আশ্বাসও মিলেছিল। কিন্তু অপেক্ষা করেও বরাদ্দ মেলেনি। আশ্বাস দেওয়ায় বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু সেটা বিশ্বাস করা ঠিক হয়নি এখন বুঝতে পারছি। নাগরিক সভা করে আমরা সেটা মানুষকে জানাব।’’ 

পুরসভার তরফেই জানানো হয়েছে, মিত্র সম্মেলনী হলে ওই নাগরিক সভা হবে। নাগরিক জীবনের কিছু সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে ওই সভা। সেখানেই রাজ্য সরকারের তরফে আর্থিক সহযোগিতা না-করার বিষয়টি তুলে ধরা হবে। মেয়র রাজনীতি করতে চাইছেন বলে অভিযোগ পুরসভার বিরোধী তৃণমূলের। বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার বলেন, ‘‘মেয়র অকারণে রাজ্য সরকারের বদনাম করবেন আর টাকা পাচ্ছেন না কেন বলবেন সেটা তো হয় না। বরাদ্দ আসবে সেটা তো আমরাও চাই। কিন্তু মেয়র তা নিয়ে, উন্নয়ন নিয়ে এলাকার মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন না। বিরোধী কাউন্সিলরদের ডেকে এখনও উন্নয়ন নিয়ে কোনও আলোচনা করেননি। সেমিনার করে, খবরে থাকতে চান। সেটাই তিনি করুন।’’

রাজ্যে সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে এর আগেও সেমিনার করেছেন মেয়র। পুরমন্ত্রী, জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রীর সঙ্গে কলকাতায় দেখা করতে গিয়ে ফিরে আসতেও হয়েছে তাঁকে। তা নিয়েও অভিযোগ তুলেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী-সহ পুর দফতরে এতদিনে যে সমস্ত চিঠি পাঠিয়েছেন তা নিয়ে বই প্রকাশ করেও সরব হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ফের কলকাতা গিয়ে পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পুরসভার প্রাপ্য অর্থ বরাদ্দ করার অনুরোধ করেন। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজ্যের কাছে যে টাকা পাওনা রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে তৃতীয় অর্থ কমিশনের ১২ কোটি টাকা, চতুর্দশ অর্থ কমিশনের ১০ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা। আর্বান ওয়েজ এমপ্লয়মেন্টের ১০ কোটি, ‘রোড কানেকটিভিটি’ প্রকল্পে ৩১কোটি, রাস্তা সংস্কারে ৮কোটি, গ্রিনসিটি প্রকল্পে ৫৬ কোটি, অনুমোদন করা হাউজিং ফর অল প্রকল্পে ৮০ কোটি টাকা, অম্রুত প্রকল্পে ২০ কোটি, স্বচ্ছ ভরত তথা নির্মল বাংলা প্রকল্পে ৪৫ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে সাড়ে ৬ কোটি এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের কাছে ১৭ লক্ষের মতো টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানান মেয়র।