কখনও দেখা যেত বন্ধ দোকানের গায়ে লাগানো রয়েছে অশ্লীল ছবি৷ তো কখনও আবার দোকান খুলতেই দেখা যেত ভেতরে পড়ে রয়েছে অশ্লীল ছবি৷ বছর দুই ধরে এ ভাবেই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করা চলছিল৷ কিন্তু দু’দিন আগেই ঠিক এ ভাবেই একটি চিঠি আসে তরুণীর দোকানে৷ সেখানে তাকে একেবারে দেখা করার প্রস্তাব দেওয়া হয় তরুণীকে৷ আর সেই প্রস্তাবে রাজি হয়েই দু’বছর ধরে অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে চলা ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেললেন ওই তরুণী৷

তবে পঞ্চাশোর্ধ ওই ব্যক্তিকে ধরতে কম বেগ পেতে হয়নি তরুণীকে৷ শনিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ জলপাইগুড়ি শহরের কমার্স কলেজের সামনে রীতিমতো ধস্তাধস্তির পর নিজের আত্মীয় ও আশপাশের লোকজনের সাহায্যে লালা ঠাকুর নামের ওই ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেন ওই তরুণী৷ পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷

জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দা বছর পঁচিশের ওই তরুণীর পরিবারের দিনবাজার এলাকায় একটি সোনার দোকান রয়েছে৷ বাবা মারা যাওয়ার পর গত কয়েক বছর ধরে ওই তরুণী ও তার এক বোন দোকান সামলাচ্ছেন৷ অভিযুক্ত লালা ঠাকুরের সেলুন রয়েছে দিনবাজারে৷ তরুণীর অভিযোগ, গত প্রায় দু’বছর ধরে মাঝে মধ্যেই রাতে তাদের দোকান বন্ধ  হয়ে যাওয়ার পর দোকানের গায়ে অশ্লীল ছবি সাঁটানো হচ্ছিল৷

কখনও কখনও বন্ধ দোকানের কাঠের তক্তার ফাঁক দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছিল অশ্লীল ছবি৷ এমনকি মাঝে মধ্যে লালা ঠাকুর ওই তরুণীকে কুপ্রস্তাবও দিত বলে অভিযোগ৷ দিনবাজার ব্যাবসায়ী সমিতির এক কর্তা বলেন, ‘‘প্রথম থেকেই আমাদের সন্দেহ লালা ঠাকুরের ওপরেই ছিল৷ তবে তাকে ডেকে কয়েকবার সতর্ক করলেও সে অভিযোগ মানেনি৷’’

ইতিমধ্যেই গত শুক্রবার একটি চিঠি পান ওই তরুণী৷ চিঠিতে তাঁকে শনিবার সন্ধ্যায় কমার্স কলেজের সামনে দেখা করতে বলা হয়৷ অভিযুক্তকে ধরতে সাহস করেই তরুণী এ দিন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ কমার্স কলেজের সামনে যান৷ তবে আগেই বাড়িতে সবটা জানিয়ে রেখেছিলেন তিনি৷ সেইমত তারাও প্রস্তুত ছিলেন৷

তরুণীর এক আত্মীয় বলেন, কমার্স কলেজের সামনে তরুণী যেতেই তাকে লালা কুপ্রস্তাব দেয়৷ তরুণী প্রতিবাদ করলে তাঁকে টানা হেঁচড়া করা হয়৷ তরুণীও রুখে দাঁড়ান৷ আশপাশের লোকজন দৌড়ে এসে অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন৷ দিনবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক দেবু চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা অভিযুক্তর কড়া শাস্তি চাই৷’’