মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরে নজরদারির জন্য সিসিটিভি-র সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তারপরেও প্রসূতি ও শিশু বিভাগের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই। একটি গেট পাসে একজন রোগীর আত্মীয় ওয়ার্ডে ঢুকতে পারবেন। তবে মালদহে সেই নিয়ম মানাই হয় না বলে অভিযোগ। যার ফলে রোগী দেখার সময় মেডিক্যালের ওই দুটি ওয়ার্ডের উপচে পড়ছে ভিড়।

সেই ভিড় কী করে সামাল দেওয়া হবে, তা এখনও পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পারছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিদিনই নতুন মুখ ঢুকছে। তাঁদের চেনা অসম্ভব। ভিড়ের মধ্যে কার হাতে শিশু থাকছে, তা নিয়্ন্তরণ করার কোনও বন্দোবস্ত করতে হবে। নতুন মায়েদের বলা হচ্ছে, অজানা কারও হাতে শিশুকে তুলে না দিতে।

তবে হাসপাতালের এক নিরাপত্তারক্ষী বলেন, কড়া প্রহরা দেওয়ার ফলে রোজই কিছু রোগীর আত্মীয়দের কাছ থেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ খেতে হয়। অনেক সময় তাঁদের নিগৃহীত হতে হয় বলেও অভিযোগ। তাই রোগী দেখার সময় বাধ্য হয়েই এক সঙ্গে একাধিক রোগীর আত্মীয়কে অনুমতি দিতে হয়। আর রোগীর আত্মীয়দের ভিড়েই বিপদের আশঙ্কা দেখছেন কর্তৃপক্ষ।

মেডিক্যালের এক কর্তা বলেন, ভিড়ের মধ্যে রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে অসাধু কারবারীদের চিহ্নিত করা দায়। তাই গেটেই কড়া প্রহরা দেওয়া প্রয়োজন। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার তথা সহ অধ্যক্ষ অমিতকুমার দাঁ বলেন, নতুন করে আরও সিসিটিভি বসানো হয়েছে। সেই সঙ্গে হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষীদের সংখ্যাও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

তবে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। এক সঙ্গে না গিয়ে যাতে এক এক জন করে রোগী দেখার সময় ওয়ার্ডে যান সেই বিষয়েও প্রচার চালানো হবে বলে জানিয়েছেন অমিতবাবু। সাদা পোশাকের পুলিশকর্মী বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।

মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছ’মাস আগে মেডিক্যাল কলেজ জুড়ে বসানো হয়েছিল ৬৪টি সিসিটিভি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, সার্জিক্যাল ওয়ার্ড, শিশু বিভাগের সামনে, বহিরবিভাগ, প্রশাসনিক ভবন, নার্সিং হোস্টেল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেলের সামনে বসানো রয়েছে সিসিটিভি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পর আরও ১৬টি সিসিটিভি বসানো হয়েছে হাসপাতালে। প্রসুতি বিভাগ ও শিশু বিভাগে সেই সিসিটিভি বসানো হয়েছে।