এতদিন ডেঙ্গির সঙ্গে ব্যাপক হারে ছড়াচ্ছিল ভাইরাল ফিভার। এ বার তার সঙ্গে যুক্ত হল চিকুনগুনিয়াও। ভাইরাল জ্বরে আক্রান্তদের কিছু ক্ষেত্রে চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ থাকায় শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি ৩১ জনের রক্তের নমুনা পাঠানো হয়েছিল পরীক্ষার জন্য। তার মধ্যে ৬ জনের দেহে চিকুনগুনিয়ার জীবাণু মিলেছে। বৃহস্পতিবারই মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্যের হাতে পৌঁচেছে ওই রিপোর্ট।

প্রলয়বাবু বলেন, ‘‘ভাইরাল জ্বরে যারা আক্রান্ত, তাদের মধ্যে ৩১ জনের রক্তের নমুনা পাঠানো হয়েছিল পরীক্ষার জন্য।  ৬ জনের শরীরে চিকুনগুনিয়ার জীবাণু মিলেছে।’’ চিকুনগুনিয়াতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকও আক্রান্ত হয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে পেডিয়াট্রিক বিভাগের ওই চিকিৎসক এখন কিছুটা সুস্থ। এ দিন তাঁর রক্তের রিপোর্টও মিলেছে।

তবে ডেঙ্গি নয় এমন ভাইরাল জ্বরে যারা আক্রান্ত তাঁদের শরীরে কী ধরনের জীবাণু সংক্রমণ ঘটেছে তা নিয়ে অন্ধকারে রয়েছেন চিকিৎসকরা। যাদের শরীরে ডেঙ্গির জীবাণু মিলছে না কিন্তু অন্য রকম উপসর্গ দেখা যাচ্ছে তাদের রক্তের নমুনা নাইসেড, পুনের ন্যাশনাল ইন্সস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বর হলেই ভর্তি না-করালেও চলে বলে তারা রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন। হাসপাতালের রোগীদের ভিড় এড়াতেই রিপোর্টে এ কথা বলা হচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও প্রতিনিধি দলের একাংশ জানান, চাপ এড়ানোর বিষয় নয়। জ্বরে বা ডেঙ্গিতে আক্রান্তদের পেটে ব্যথা, বমি,শরীরের কোনও অংশ দিয়ে রক্তক্ষরণ, গায়ে র‌্যাশ, প্লেটলেট কমে যাওয়া মতো উপসর্গ থাকলে ওই রোগীদের ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের একাংশ জানান, চিকুনগুনিয়ার উপসর্গও ডেঙ্গির মতোই। তবে গাঁটে ব্যথা বেশি হয়। অনেক ক্ষেত্রে হাত, পা মুখ ফুলে যায়। এমন উপসর্গ রয়েছে, অথচ ডেঙ্গির জীবাণু না মেলাতেই তাঁদের চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষা করা হয়।