ক্ষোভ ছিল দীর্ঘ দিন ধরেই। রবিবার দুপুরে অফিসের ল্যান্ড ফোন ব্যবহার করার অনুমতি চেয়েছিলেন দুই মহিলা আবাসিক। অভিযোগ, ফোন তো ব্যবহার করতে দেওয়া হয়ইনি। উল্টে তিরস্কার করা হয়েছিল তাঁদের। এমনকী অফিস থেকে ধাক্কা দিয়ে তাঁদের বেরও করে দেওয়া হয় বলে দাবি। এর পরেই ১৯ জন আবাসিক এক জোট হয়ে হোম ছেড়ে হাঁটা দেন রাস্তায়।

কোচবিহারের বাণেশ্বরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আবাসের ওই ঘটনায়র পরে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের অনুরোধে আবাসিকরা ফেরেন। আজ, সোমবার ওই বিষয়ে হোমে বৈঠক ডেকেছেন কোচবিহারের মহকুমাশাসক অরুন্ধতী দে। আবাসিকদের অনেকেরই অভিযোগ, সেখানে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, দিন কয়েক আগেও ওই হোম নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল যে এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে সেখানে রাখা হয়। তিনি বেশ কয়েক জনকে মারধর করেন। এ ছাড়াও পোশাক, শীতের কম্বল-সহ নানা বিষয় নিয়ে

কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। দশ মাস আগে পাঁচ তরুণীর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে। আবাসিকরা জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যবহার করার একটি ‘ল্যান্ড ফোন’ সেখানে আছে। সেই ফোন সব সময় খারাপ থাকে। এ দিন প্রয়োজনীয় কাজে হোম সুপার ইতি রায়কে ফোন করবেন বলে তাঁরা অফিসে যান। ফোন ব্যবহারের অনুমতি চাইলে তা দেওয়া হয়নি। অফিসেরই এক জন তাঁদের ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন। এর পরেই আবাসিকরা নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে চাবি নিয়ে গেট খুলে বাইরে বেরিয়ে পড়েন। বিপাকে পড়ে পুলিশে খবর দেন হোম কর্তৃপক্ষ। হোম সুপার ইতিদেবী বলেন, “আমি বাইরে ছিলাম। আবাসিকদের অভিযোগের কথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।” যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অধীন ওই হোম তার সম্পাদক বাবলু কার্জী অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অফিসে সে সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। ওই দুই আবাসিককে একটু পরে যেতে বলা হয়েছিল। তাতেই তাঁরা ক্ষুব্ধ হন।