প্রায় সবাই বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। নিজের মতো করে। বাকিটা জোগাড় হয়েছে ভিটেমাটি ছেড়ে এ পারে আসার সময় নিয়ে আসা সামান্য টাকা থেকে।

মঙ্গলবার তাই দিয়েই প্রথম কন্যাদান হল সাবেক ছিটে। দিনহাটা ক্যাম্পের বাসিন্দা অনিতার বিয়ে হল বামনহাটের যুবক রবি রায়ের সঙ্গে। অনিতার বাবা শয্যাশায়ী। অসুস্থ ভাইও। বিয়ের উদ্যোক্তা অনিতার মামা মৃণাল বর্মন। তিনি বললেন, ‘‘এত দিন অনেক দুর্দশা সহ্য করেছে। এ বার ক্যাম্পের জীবন ছেড়ে নিশ্চয়ই একটু সুখের মুখ দেখবে ভাগ্নি।’’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনিতার বাবা হরেকৃষ্ণ বর্মন এ পারে এসেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই থেকে শয্যাশায়ী। ভাই শচীন দিনমজুরি করে কিছু আয় করতেন। তাও তেমন ভাবে কাজ মিলত না। চার মাস ধরে সেও অসুস্থ। মৃণালবাবুর কথায়, ‘‘বলা চলে অনেকটা ভিক্ষে করেই বিয়ের আয়োজন করছি। মেয়ে বড় হয়েছে। বিয়ে তো দিতে হবে।’’ পাত্র রবি দর্জির কাজ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাসিন্দারা জানান, সাবেক ছিটের ক্যাম্পে এই প্রথম কোনও মেয়ের বিয়ে হল। তাই সবাই মিলে এগিয়ে এসেছেন। ক্যাম্পের বাসিন্দারা তো বটেই আশেপাশের প্রতিবেশীরাও বিয়েতে নিমন্ত্রিত। তাই টাকার সংস্থান নিয়ে চিন্তা ছিলই। সবাই মিলে বিধায়ক, সাংসদের বাড়িতে যান। স্থানীয় তৃণমূল নেতা থেকে অনেকের কাছে গিয়েই তাঁরা সাহায্য চান। প্রত্যেকেই সাহায্যের আশ্বাস দিলে সাহস হয় তাঁদের। অনিতার ভাই শচীন বলেন, “কিডনিতে পাথর হয়েছে আমার। চিকিৎসার টাকা জোগাতে হিমসিম খাচ্ছি। তার মধ্যেই বিয়ের আয়োজন করতে হয়েছে। কী করব, বোনটার তো বিয়ে দিতে হবে।”

মৃণালবাবু জানান, এখনও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে থাকা সাবেক ছিটমহলে তাঁদের তেইশ শতক জমি রয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। কিন্তু সেখানে যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছেন না তাঁরা। তিনি বলেন, “সেখানে তো জমি ছিল। তাই চাষ করে সংসার চলে যেত। এ পারে তো কিছুই নেই।”