আগামী ২৫ মার্চ শিলিগুড়ি পুর বাজেট। তার আগে রবিবার শিলিগুড়ি পুর কর্তৃপক্ষ তথা মেয়রের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তোপ দাগলেন তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি তথা পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। হিলকার্ট রোড়ে দলীয় কার্যালয়ে বসে অভিযোগ তোলেন, ‘‘শিলিগুড়ি পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডে এখনও খোলা আকাশের নিচে শৌচকার্য করেন বাসিন্দাদের একাংশ।’’ অশোকবাবুকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘২০ বছর মন্ত্রী ছিলেন অশোকবাবু। এখন মেয়র হয়ে পুরসভার দায়িত্বে আছেন। অথচ শহরে খোলা জায়গায় শৌচকার্য বন্ধ করতে পারছেন না তিনি। যা দুর্ভাগ্যের এবং লজ্জার।’’

শিলিগুড়ি পুরসভার সে ভাবে আন্দোলন হচ্ছে না বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এর পরেই আন্দোলনে নামা হয়। মন্ত্রীর অভিযোগ, গীতাঞ্জলি প্রকল্পে পুর এলাকায় বাড়ি তৈরির টাকা বরাদ্দ করা হলেও উপভোক্তাদের দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর বিধানসভা এলাকার মধ্যে থাকা শিলিগুড়ি পুরসভার ১৪টি ওয়ার্ডে ৮৯ জন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অথচ তাঁরা টাকা পাচ্ছেন না। তা ছাড়া রাজ্য সরকারের তরফে শিলিগুড়ি পুরসভাকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে না বলে মেয়র যে অভিযোগ বারবার তুলছেন তা কাল্পনিক।

মেয়র বলেন, ‘‘গৌতমবাবুদের অবস্থা এখন চাচা আপন প্রাণ বাঁচা। নারদ কাণ্ডে তাঁদের অনেকের নাম উঠেছে। আরও অনেকের নাম এল বলে। তাই এসব বলছেন।’’ মেয়র জানান, রাজ্য সরকার যে শিলিগুড়ি পুরসভাকে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দে বঞ্চিত করছে, তা তথ্য দিয়ে বলেছি। মেয়রের দাবি, খোলা জায়গায় শৌচকার্য এখনও চলছে দেশের অনেকাংশেই। সে জন্যই স্বচ্ছ ভারত অভিযান হচ্ছে। পর্যটনমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর বিধানসভা ক্ষেত্রের মধ্যে ডাবগ্রাম এলাকায় শিলিগুড়ি পুরসভার ১৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। তার মধ্যে ৬ টি ওয়ার্ডে এখনও বাসিন্দাদের একাংশ খোলা আকাশের নীচে শৌচকার্য করেন। পুরসভা তা বন্ধ করতে না-পারায় ডাবগ্রাম এলাকাকে নির্মল ঘোষণা করা যাচ্ছে না।

গীতাঞ্জলি প্রকল্পে উপভোক্তাদের নাম পুরসভার ঠিক করার কথা বলে দাবি মেয়রের। অথচ ৮৫টি নাম পর্যটনমন্ত্রী ঠিক করে দিয়েছেন বলে তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ জানিয়েছেন।