এক শয্যায় সাহেব আলি, পাশের শয্যায় স্বপন বর্মন। রবিবার তুফানগঞ্জের দেওচড়াইয়ের সন্তোষপুর বটতলায় ছিল এমনই সম্প্রীতির রক্তদানের ছবি। যে শিবির যৌথ ভাবে আয়োজন করেছিল সন্তোষপুর নারকেলতলা মসজিদ কমিটি ও রাধাগোবিন্দ হরি মন্দির কমিটি। এবং যে রক্তদান শিবিরে দাঁড়িয়ে এলাকার দাঁড়িয়ে এলাকার শান্তিরক্ষা কমিটির লোকজনও বলেন, ‘‘আমাদের এখানে বরাবরই এমন সম্প্রীতির আবহ।’’

উদ্যোক্তারাও তাঁদের সঙ্গে একমত। তাঁরা জানান, এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্যের নানা নজির রয়েছে। ইদের আনন্দে যেমন ঘরে ঘরে সিমাইয়ের ভাগবাঁটোয়ারা চলে, তেমনই দুর্গাপুজোর প্রতিমা ভাসানে মিলেমিশে নেচে ওঠেন সকলে। প্রত্যেক বার দরিদ্র বাসিন্দাদের বস্ত্রদানের মতো নানা সামাজিক কাজও করেন দুই কমিটির কর্তারা। মসজিদ কমিটির সদস্য ফারুখ মণ্ডল বলেন, “রক্তের কোনও ধর্ম হয় না। মানবতার বার্তা দিতেই এ বার দুই কমিটি মিলে আলোচনা করে রক্তদানের কর্মসূচি নেওয়া হল।” মন্দির কমিটির তরফে স্বপন বর্মন বলেন, “এলাকায় যে কোন উৎসবেই দুই সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা একসঙ্গে আনন্দে মাতেন। সেই বন্ধনের বার্তাটা আরও জোরালো করতে এই কর্মসূচি।”

শান্তিরক্ষা কমিটির কর্তারা কর্তা কবীর আলি বলেন, “আমরা তো এমনটাই চাই। দুই কমিটি মিলেই মানুষের জন্য আরও কিছু করার ভাবনা শুরু করে। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে আমরাও খুশি।” পেশায় কাঠমিস্ত্রি বছর তেতাল্লিশের সাহেব আলি এই নিয়ে ৩৫তম বার রক্তদান করে নজির রাখেন। উদ্যোক্তাদের তরফে তাঁকে সংবর্ধিত করা হয়। তিনি বলেন, “আর্থিক সহায়তার সামর্থ্য নেই। মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাই রক্তদানকেই বেছে নিয়েছি।”

স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, উৎসবের মরসুমে ব্লাডব্যাঙ্কে জোগান কম। এমন শিবির সব জায়গায় হলে সম্প্রীতির বার্তা যাবে, পাশাপাশি রক্তের অভাবে সমস্যাও হবে না।