মঙ্গলবার থেকে জলপাইগুড়ি শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাস্তায় টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পুরসভা ও ট্রাফিক পুলিশ৷ পুলিশের তরফে সোমবার এ নিয়ে শহরজুড়ে প্রচারও চালানো হয়৷ কিন্তু পুরসভা ও পুলিশের সেই নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই এ দিন ওই রাস্তাগুলিতে অবাধে চলল টোটো৷ গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ পুরকর্তারা জানিয়েছেন, কেন এমনটা হল তা ট্রাফিক পুলিশের থেকে জানতে চাওয়া হবে৷ আর পুলিশের দাবি, নিষেধাজ্ঞা না মানায় এ দিন বেশ কয়েকটি টোটো আটক করেছে তারা৷

শহরজুড়ে টোটোর দাপটে অতিষ্ট জলপাইগুড়ির বাসিন্দারা৷ এই পরিস্থিতিতে শহরে টোটো নিয়ন্ত্রণের জন্য দিন কয়েক আগে ট্রাফিক পুলিশ ও টোটো চালকদের সংগঠনগুলিকে নিয়ে বৈঠকের ডাক দেন পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসু৷ টোটো চালকদের সংগঠন বৈঠকে না গেলেও, সেখানেই ঠিক হয়, কালীপুজো পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে টোটো চলাচল বন্ধ থাকবে৷ পাশাপাশি, শহরে বাইরের টোটোর প্রবেশ রুখতে টোটো চালকদের সঙ্গে ভোটার কার্ড বা আধার কার্ড রাখা বাধ্যতামূলক বলে জানান ট্রাফিক পুলিশের কর্তারা৷

গত সোমবার জলপাইগুড়ি ট্রাফিক পুলিশের তরফে শহরজুড়ে মাইকে প্রচার করা হয়৷ বলা হয়, মঙ্গলবার থেকে কালীপুজো পর্যন্ত শহরের ডিবিসি রোড, মার্চেন্ট রোড, কামারপাড়া রোড, বেগুনটারি রোড এবং থানা রোডে কোনও টোটো চালানো যাবে না৷ সেইসঙ্গে জাতীয় ও রাজ্য সড়কেও কোনও টোটো চালানো যাবে না বলেও ওই ঘোষণায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের এই নির্দেশ যে কোনও গুরুত্ব পায়নি তা স্পষ্ট হয়ে যায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই৷ পুলিশের উল্লেখ করা রাস্তাগুলিতে দিনভর অবাধেই চলে টোটো৷ অভিযোগ, নির্দেশ অমান্য করা সেই সব টোটো চালককের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনও উদ্যোগ নেয়নি জলপাইগুড়ির ট্রাফিক পুলিশ৷ স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ বাড়ছে বিভিন্ন মহলে৷ এক পুলিশ আধিকারিক দাবি করেন, নির্দেশ অমান্য করায় কিছু টোটোকে এ দিন আটক করা হয়৷

ক্ষুব্ধ জলপাইগুড়ি পুরসভার কর্তারাও৷ এই পরিস্থিতির জন্য তারাও ট্রাফিক পুলিশকেই দায়ী করেছেন৷ জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসু বলেন, ‘‘নিষেধাজ্ঞা জারি করা সত্ত্বেও রাস্তাগুলিতে কেন টোটো চলল তা পুলিশের থেকে জানতে চাইব৷’’ তবে জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, ‘‘যে সব রাস্তায় টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে, সেখানে টোটো চলাচল বন্ধ হবেই৷ তবে একবারে তা করতে গেলে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে ধীরে ধীরে করা হচ্ছে৷’’

এ দিকে, পুরসভা ও পুলিশের নির্দেশ নিয়ে বিভ্রান্তির অভিযোগ তুলে এ দিন দুপুরে মোহিতনগরে বিক্ষোভ দেখান একদল টোটো চালক৷ তাদের অভিযোগ, পুলিশের তরফে সোমবার তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, শহরে টোটো নিয়ে যাওয়া যাবে না৷ সে জন্য তারা তা বন্ধ করে দিয়েছেন৷ অথচ, অন্য জায়গা থেকে ঢুকে শহরে টোটো চলছে৷ টোটো চালক মঙ্গল পাল বলেন, ‘‘এমনটা চললে আমরা টোটো চালানো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব৷’’