দুই শহরের একাধিক সমবায় ব্যাঙ্কের শাখায় আয়কর অভিযানের কারণ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। জলপাইগুড়ি এবং শিলিগুড়ির সমবায় ব্যাঙ্কের কয়েকটি শাখায় এক সঙ্গে আয়কর দফতরের দল অভিযান চালাচ্ছে। নোট বাতিল পর্বে একাধিক অবৈধ লেনদেনের গন্ধ পেয়েই আয়কর দফতরের দল সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে হানা দিয়ে নথি সংগ্রহ করছে বলে দাবি।

তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি নিছকই রুটিন অভিযান হয়েছে। প্রতি বছরই মার্চ মাসে এমন অভিযান হয় বলে তাঁদের দাবি। আয়কর দফতরের কর্তারা অভিযান নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

গত শুক্রবার থেকে জলপাইগুড়ি এবং শিলিগুড়ির একাধিক সমবায় ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়েছিলেন আয়কর অফিসাররা। ব্যাঙ্কের বিভিন্ন লেনদেন খুঁটিয়ে দেখেন। অনলাইনে ব্যাঙ্কের অন্য শাখার লেনদেনও যাচাই করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

বেশ কিছু নথির প্রতিলিপিও সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছেন আয়কর দফতরের দল। গত নভেম্বর থেকে ব্যাঙ্ক সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় কত আমানত ব্যাঙ্ক রেখেছে তা জেনেছে। গ্রাহকরা কত টাকা জমা রেখেছেন, তার বিশদ তথ্যও নিয়েছে আয়কর দল। যে গ্রাহক তথা আমানতকারীরা ব্যাঙ্ক থেকে দশ হাজার টাকার বেশি সুদ পান তাঁদের টিডিএস কাটা হয়েছে কি না, তার নথিও যাচাইয়ের জন্য সংগ্রহ করেছে অভিযানকারী দল।

গত বছর নভেম্বরে ৫০০ এবং ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। পুরোনো নোট ব্যাঙ্কে বদল করতে ৫০ দিন সময় দেওয়া হয়। সে সময় দেশ জুড়ে সমবায় ব্যাঙ্কে বাতিল টাকার কাঁড়ি কাঁড়ি নোট জমা পড়তে শুরু করে বলে জানায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তারপরেও বিভিন্ন সমবায় ব্যাঙ্কে আপত্তিকর লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ। শিলিগুড়িতে একটি ব্যাঙ্কের শাখা থেকে গত বুধবার ঘণ্টাখানেক ধরে খোঁজখবর চালান আয়কর আধিকারিকেরা। জলপাইগুড়ির একটি ব্যাঙ্কে চার ঘণ্টা ধরে খুঁটিয়ে নথি পরীক্ষা হয়েছে। আয়কর দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘অনেক ক্ষেত্রে একেবারে শাখা স্তরে আপত্তিকর লেনদেন হয়েছে। সে সবই দেখা হচ্ছে।’’