বামেদের ২৩। আর তৃণমূলের ৩। উন্নয়নে কে কত নম্বর পেলেন, তারই ফল মিলবে পুরভোটে। অন্তত বুনিয়াদপুরের মানুষ তাই মনে করছেন।

দু’দিনের বৃষ্টিতে গরম খানিকটা কমেছে। মাঝে মাঝে বইছে ঠান্ডা হাওয়া। প্রচারের শেষ দিনে তার মধ্যে সব দলের নেতা-কর্মীরাই চেয়েছেন বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছতে। বারবার এসেছে উন্নয়নের খতিয়ান।

সকালে ছাতা মাথায় বাজার করতে বেরিয়েছিলেন সুমিতা রায়। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রসিদপুর এলাকা বাসিন্দা সুমিতাদেবীর কথায়, ‘‘পাকা রাস্তা হওয়ায় এখন আর আগের মতো বর্ষায় বেরোতে সমস্যা নেই। পথবাতিও বসেছে। কিন্তু সুষ্ঠু নিকাশি ব্যবস্থা চাই।’’ তবে ৬ নম্বর থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মুখে বাসস্ট্যান্ড, স্টেডিয়াম, অডিটোরিয়াম নিয়ে অনুযোগ শোনা গিয়েছে।

বামেদের আমলে ১৯৯৪ সালে মহকুমা সদর হয় বুনিয়াদপুর। কিন্তু তারপরেও পূর্ণ সদর শহর হয়ে ওঠা হয়নি বুনিয়াদপুরের। ২০০১ সালে সুকান্তমঞ্চ নামে অডিটরিয়ামের শিলান্যাস হলেও তা শেষ হয়নি। বাসস্ট্যান্ড, মহকুমা আদালত থেকে মহকুমাশাসকের ভবনও করা যায়নি। সিপিএম নেতা গৌতম গোস্বামীর দাবি, ‘‘আমরা সুযোগ পাইনি।’’

তৃণমূলের পাল্টা দাবি, ২৩ বছরে বামেরা যে কাজ করতে পারেনি, তারা তা করেছে মাত্র ক’বছরেই। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে বুনিয়াদপুরকে নোটিফায়েড এলাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপর শহরের ১৪টি ওয়ার্ডে ১০০ থেকে ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৮৮টি পাকা রাস্তা তৈরি হয়েছে। কমবেশি পথবাতিও বসেছে। নিকাশি নালা তৈরিতে টেন্ডার হয়েছে। দমকল দফতর থেকে অফিস পরিকাঠামো, স্টেডিয়াম এবং মহকুমা আদালত তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রর তাই বক্তব্য, ‘‘আমরা যে উন্নয়ন করতেই রাজনীতি করি, ওটা তারই প্রমাণ।’’

বিজেপির দাবি, তৃণমূল গায়ের জোরে ক্ষমতায় এসেছে। বিজেপির অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার বলেন, ‘‘ভোটের দিন মা বোনেরা রান্নাবান্না করে ঝাঁটা বটি নিয়ে বাইরে আসুন। বুথ দখলকারী তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কতীদের আটকাতে প্রয়োজনে তাদের ঝাঁটা মেরে বুথ থেকে বিদায় করুন।’’ বিপ্লববাবুর বক্তব্য, ‘‘বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ করছে।’’