দা দিয়ে স্ত্রীর দেহ থেকে মাথা আলাদা করে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ কোতোয়ালি থানার ডাউয়াগুড়ির গয়েরগাড়ি দাসপাড়ার ঘটনা।

পুলিশ জানায়, মৃতার নাম সবিতা রায় (৫০)। ঘরের ভিতরেই তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে ছিল। দেহের খুব কাছেই পড়েছিল মাথা। যে দা দিয়ে ওই খুন করা হয়েছে সেটিও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত স্বামী প্রমোদ রায় পলাতক। তার খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে। কোচবিহারে পুলিশ সুপার অনুপ জায়সবাল বলেন, “দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।”

পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে প্রায় রোজই স্বামী-স্ত্রীর বিবাদ লেগে থাকত। দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দুই ছেলে কাজের সূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। ছোট ছেলে রেলের কর্মী। তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকেন। কিন্তু কাজের সূত্রে প্রতিদিনই তাঁকে বাইরে যেতে হয়। এ দিনও সকাল থেকে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই বাড়িতে ছিলেন। তাঁদের গরু রয়েছে। দুধ নিতে একজন গোয়ালা প্রতিদিন ওই বাড়িতে যান। এ দিনও বাড়িতে গিয়ে অনেক ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের জানান তিনি। তাঁরা ঘরের ভিতরে ঢুকে সবিতাদেবীর রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে।

বাসিন্দারা জানান, প্রমোদের আচার ব্যবহার কখনওই ভাল ছিল না। দম্পতির জামাই বাপি দেবনাথ বলেন, “শ্বশুরমশাই রাগী ছিলেন। নানা সময় বিবাদ দেখেছি। ছেলেমেয়েরা শাসন করলে আবার সব কিছু মিটে যেত।  কিন্তু এমন ঘটবে তা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না।” বাসিন্দাদের কয়েক জন বলেন, “আমরা ভাবতেই পাচ্ছি না এমন ভাবে ওঁকে খুন হতে হবে। অভিযুক্তের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

ডাউয়াগুড়ি বাজারে কিছু দিন আগেও দিনে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে। পঞ্চায়েত প্রধান চন্দন কার্জী বলেন, “পারিবারিক বিবাদেই এই ঘটনা বলে শুনছি। পুলিশ তদন্ত করছে।”