উপচে পড়ছে জ্বরের রোগীর সংখ্যা। এই অবস্থায় রোগী ভর্তি না নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল শিলিগুড়ি হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, কাউকে দুই ঘণ্টা রেখে ঠিক মতো চিকিৎসা না-করেই রেফার করা হয়েছে। রেফারের সময় প্লেটলেট দিতে হবে বলে কারণ দেখানো হচ্ছে। কখনও বলা হচ্ছে শয্যা, মেঝে কোথাও জায়গা নেই তাই রেফার করা হচ্ছে। জ্বর নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নাজেহাল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাঁর পরিবার।

ডেঙ্গি আক্রান্তদের শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল থেকে রেফার করার সময় রোগীদের রক্ত পরীক্ষা রিপোর্ট সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে না। পরে গিয়ে পরিবারের লোকজন চাইলেও তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। হাসপাতালের সুপার অমিতাভ মণ্ডল বলেন, ‘‘হাসপাতালে মেডিসিন, আইডি বিভাগ জ্বরের রোগীতে ভর্তি। মেঝেতেও জায়গা নেই। সে কারণে অনেক ক্ষেত্রে রেফার করতে হচ্ছে।’’ প্লেটলেট দেওয়ার জন্য রেফার করার কথা নয় বলে তাঁর দাবি। রিপোর্ট পেতে সমস্যা হওয়ার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান। 

শিলিগুড়ি হাসপাতালে পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন বিভাগে ৩৬টি করে শয্যা রয়েছে। কিন্তু রোগী রয়েছে শতাধিক করে। আইডি ওয়ার্ডে ৩০টি শয্যা। সেখানেও বাড়তি ১০-১৫ জন রোগী থাকছেন। এখান থেকে রেফার হয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে গেলেও সেখানকার ছবিটাও আলাদা নয়। সেখানে মেডিসিন, ফিভার ওয়ার্ডে ৪৫টি করে শয্যা। কোথাও ৯০, কোথাও ১০০ জন রোগী থাকছেন। করিডরের মেঝেতে থাকা রোগীদের মশারি দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফিভার ওয়ার্ডে শয্যা ফাঁকা থাকলেও সেখানে অন্য রোগীদের রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

রতন সাহা, সুনীতা দাস, শ্যামলী দাস, সুধা রায়দের মতো অন্তত ২৫ জন শিলিগুড়ি হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। জ্যোতিনগরের বাসিন্দা শ্যামলীদেবীর পরিজনেরা বলেন, ‘‘শুক্রবার দুই ঘণ্টা শিলিগুড়ি হাসপাতালে থাকার পর মেডিক্যালে রেফার করা হয়। সেখানে কোনও চিকিৎসাই হয়নি।’’ ডেঙ্গি আক্রান্ত সুনীতাদেবীর প্লেটলেট ৪২ হাজারে নেমে গিয়েছিল। অভিযোগ, তিন দিন শিলিগুড়ি হাসপাতালে রাখার পর প্লেটলেট দিতে হবে বলে শনিবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে রেফার করা হয়।

এ দিকে জলপাইগুড়ির চামুর্চির পরে ধূপগুড়ির চুনাভাটি চা বাগানে অজানা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ৷ সিলবাহান মাঝি (৪১) গত রবিবার রাতে জলপাইগুড়ির হাসপাতালে মারা যান৷ প্রচন্ড জ্বর ও গা-হাত-পা ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি৷ জ্বরের কারণ জানতে এ দিন শিলিগুড়িতে আসা স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ দলের কাছে আক্রান্তদের রক্তের নমুনা পাঠানো হয়েছে৷ যেখানে জ্বরের প্রকোপ বেশি সেখানকার বাগানগুলোতে ধোঁয়া ছড়িয়ে ও সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে স্বাস্থ্য দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক৷