কখনও এক জনই চার-পাঁচ জন রোগীর দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছেন৷ কখনও দায়িত্ব নিয়েও রোগীর সেবা না করে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন৷ কখনও আবার ঠিক মতো চিকিৎসা হবে না বলে ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ৷ তাই আয়াদের দাপট কমার বদলে যত দিন যাচ্ছে ততই বেড়ে চলেছে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে। অথচ, কর্তৃপক্ষ উদাসীন৷

জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে সব ওয়ার্ডেই কম-বেশি আয়াদের দাপট রয়েছে বলে অভিযোগ রোগীর আত্মীয়দের৷ তবে আয়াদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ প্রসুতি বিভাগে৷ অভিযোগ, অনেক সময়ই ওই ওয়ার্ডে এক জন আয়া দু’তিন জন, এমনকী চার-পাঁচ জন রোগীরও দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছেন৷

রাজ দাস নামে এক রোগীর আত্মীয় বলেন, ‘‘আমার এক আত্মীয় প্রসূতি বিভাগে ভর্তি৷ হাসপাতালে এসে সারা ক্ষণ খেয়াল রাখার মতো বাড়িতে মহিলা নেই৷ তাই বাধ্য হয়েই এক জন আয়া ঠিক করা হয়েছে৷ কিন্তু আমাদের রোগীকে ছাড়াও সে আরো তিন জন রোগীকে দেখছে৷’’ রতন সরকার নামে এক ব্যক্তির কথায়, ‘‘আমরা প্রথমে আয়া রাখতে চাইনি৷ কিন্তু আয়ারাই এসে বলল যদি আমাদের না রাখেন, তাহলে চিকিৎসকরা সময় মতো দেখবেন না৷ তাই কিছুটা ভয় পেয়েই একজন আয়া রাখলাম৷’’

রোগীর আত্মীয়দের আবার কারও কারও অভিযোগ, কোনও কোনও সময় আয়ারা কারও কারও থেকে বেশি টাকাও দাবি করে৷ এমনকী রাতের বেলায় অনেক সময় রোগীরা ডেকেও আয়াকে পান না৷ কারণ রোগীর পাশে বসে থাকলেও, তিনি তখন ঘুমাচ্ছেন৷

জলপাইগুড়ির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘‘আয়া নিয়ে স্থানীয় ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না৷ তবে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নিলে অবশ্যই তা পালন করব৷ সেই সঙ্গে কোনও রোগী বা রোগীর আত্মীয় কোনও আয়াকে নিয়ে অভিযোগ করেন, তখন নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’’