শনিবার ভর সন্ধ্যায় দুই দুষ্কৃতী দলের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে ফের প্রাণ গেল নিরীহ এক ব্যক্তির। ঘটনায় আহত হয়েছে তার স্কুল পড়ুয়া ছেলেও। মালদহের কালিয়াচক থানার বালুয়াচারা গ্রামে এই ঘটনার পর পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। কালিয়াচক থানা থেকে বাড়তি পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম নুরুল শেখ(৩৫)। তিনি গ্রামের বাজারে মুদি খানার দোকান চালাতেন। ঘটনায় আহত হয়েছে মৃতের স্কুল পড়ুয়া ছেলে ফিরদৌস শেখ। সে স্থানীয় একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই কিশোরকে ভর্তি করা হয়েছে সীলামপুর গ্রামীণ হাসপাপাতালে। পুলিশি টহলদারি চলছে গ্রাম জুড়ে।

বোমা গুলি নিয়ে সংঘর্ষে মাস ছয়েক আগেও একাধিক বার উত্তপ্ত হয়েছিল কালিয়াচক। এলাকা দখল নিয়ে দুই দুষ্কৃতী দলের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে প্রাণ গিয়েছে নিরীহের। আহত হয়েছেন একাধিক স্কুল পড়ুয়া। কালিয়াচকের কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের পর কয়েক দিন নিয়ন্ত্রণে ছিল পরিস্থিতি। ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল সেই কালিয়াচকে।

এ দিন সন্ধে ছ’টা নাগাদ কালিয়াচক থানার জালালপুর গ্রামপঞ্চায়েতের বালুয়াচারা গ্রাম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দু’দল দুষ্কৃতীর সংঘর্ষে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুয়াচারা স্ট্যান্ডে মোট ২০টি দোকান রয়েছে। সেই বাজারের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাজমুল শেখের সঙ্গে বিরোধ চলছিল বাইতুল শেখের। এ দিন তাই নিয়েই শুরু হয় বোমাবাজি। আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে দেন। সেই সময় দোকানের ভিতরে ছিলেন নুরুল শেখ ও তাঁর স্কুল পড়ুয়া ছেলে ফিরদৌস। তাঁর দোকানের সামনে চারটি বোমা পড়ে। একটি বোমা নুরুল গায়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। আহত হয় ফিরদৌস।

বাসিন্দারা ছুটে গেলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। ওই কিশোরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কালিয়াচক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ব্যবসায়ীর মৃতদেহ তুলতে বাধা দেওয়া হয়। পড়ে কালিয়াচক থানার আইসি সুমন চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।