ধর্ষণের অভিযোগ জানাতে গিয়ে দুর্ব্যবহার এবং মামলা রুজুতে টালবাহানার অভিযোগ উঠল কালিয়াচক থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে নির্যাতিতা সেই নাবালিকা ও তাঁর মা-র সঙ্গে থানায় টালবাহানা ও দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও পরে পুলিশ ওই ঘটনায় মামলা রুজু করেছে এবং নাবালিকাকে মেডিক্যাল পরীক্ষাও করানোও হয়। এ দিকে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং কালিয়াচক থানার পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানি ও খারাপ ব্যবহারের ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়ে শুক্রবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আর্জি জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ বছরের ওই কিশোরীর বাড়ি কালিয়াচকের রাজনগর মডেল এলাকায়। গত ১৪ তারিখ রাত আটটা-সাড়ে আটটা নাগাদ মেয়েটি বাড়িরই কিছুটা দূরে গিয়েছিল। অভিযোগ, সেখানেই প্রতিবেশী দুই যুবক তার মুখ চাপা দিয়ে ধরে পিছন দিকের একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে যায় ও ধর্ষণ করে। অনেক সময় কেটে গেলেও মেয়ে ঘরে না ফেরায় মা খুঁজতে গিয়ে ওই পুকুর পাড় থেকে তাকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে আসে।

মেয়েটির বাবার দাবি, লোকলজ্জার কারণে তাঁরা দু’দিন ঘটনাটি প্রকাশ করেনি। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা নাগাদ ওই নাবালিকা, তার মা, এক জন সমাজকর্মী ও এলাকার দু’জন বাসিন্দা কালিয়াচক থানায় যান। তাঁর অভিযোগ, মেয়ে ও মা-কে থানায় প্রায় দু’ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। আর বাকিদের থানার বাইরে রোদের মধ্যে বসিয়ে রাখা হয়।

এ নিয়ে থানার ডিউটি অফিসারকে বলতে গেলে তিনি সকলের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাঁর অভিযোগ, শেষমেশ মামলা রুজু হলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

সমাজকর্মী ইব্রাহিম শেখ বলেন, ‘‘মামলা রুজুর কথা ভালো ভাবে বলতে গেলে আমাদের সকলের সঙ্গেই থানার ডিউটি অফিসার দুর্ব্যবহার করেন। মামলা রুজুতে টালবাহানা করেন। পরে আর এক পুলিশ অফিসার হস্তক্ষেপ করলে মামলা রুজু হয়। আমরা দোষীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত চাইছি।’’ পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেন, ওই ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক। পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে।