তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে দিনভর নাকাল হল পুলিশ। মঙ্গলবার কোচবিহারের কলেজগুলিতে মনোনয়নপত্র তোলার শেষ দিন ছিল।

শাসক দল সূত্রেই খবর, টিএমসিপি-র দুই গোষ্ঠী সোমবার রাত থেকেই পুলিশকে ফোন করে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন। একদল অভিযোগ করেন, তাঁদের দুই মহিলা প্রার্থীকে অপহরণ করে নিয়েছে অপর গোষ্ঠী। আরেক দল অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রার্থীদের এক জনকে আটক করে রাখা হয়েছে। তাঁদের খুঁজতে একবার পুলিশ স্টেশন মোড় আবার মড়াপোড়া চৌপথী হয়ে নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়ান। শেষপর্যন্ত অবশ্য তেমন কোনও ঘটনাই পুলিশের নজরে পড়েনি। পুলিশ জানায়, যে দুই ছাত্রীকে অপহরণের কথা বলা হয়েছিল, তাঁরা নিজেরাই কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। পরে ফিরে এসে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে বাড়ি চলে যান। কোচবিহারের পুলিশ সুপার অনুপ জয়সওয়াল অবশ্য বলেন, “গুজব ছড়ানো হয়। অনেকেই আমাদের কাছে অভিযোগ জানায়। আমরা সব খতিয়ে দেখেছি তেমন কিছু পাইনি।”

    কোচবিহার ও মাথাভাঙা দুই জায়গায় তিনটি কলেজে রাজ্যের শাসক দলের দুই পক্ষ সরাসরি লড়াই করছে। অভিযোগ, কোচবিহারে এবিএনশীল কলেজ ও কোচবিহার কলেজে টিএমসিপি-র জেলা সভাপতি সাবির সাহা চৌধুরী ও কাউন্সিলর শুভজিৎ কুণ্ডুর অনুগামীদের সঙ্গে তৃণমূল নেতা অভিজিৎ দে ভৌমিকের অনুগামীদের লড়াই হচ্ছে। দু’পক্ষই রাত থেকে অভিযোগ করতে শুরু করে। অভিজিৎবাবুর অনুগামীদের অভিযোগ, তাঁদের প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানো হয়। শুভজিৎবাবুর অনুগামীরা অভিযোগ করেন, তিন জনকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। সাবির বলেন, “রাজ্য নেতৃত্বকে সব জানিয়েছি। তাঁদের নির্দেশ মতোই কাজ হবে।” সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি সায়নদীপ গোস্বামী বলেন, “সংগঠনের নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।” জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, “অভিযোগ পেয়েই আমরা নানা জায়গায় ছুটে গিয়েছি। ঝুঁকি নিতে চাইনি। কিন্তু সব জায়গায় গিয়ে ফাঁকা হাতে ফিরতে হয়েছে। পরে বোঝা গিয়েছে, অভিযোগ ঠিক নয়।’’

মাথাভাঙা কলেজে মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন এবং বিধায়ক হিতেন বর্মনের অনুগামীদের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। দু’পক্ষের কেউ প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে রাজি হয়নি।