বর্ষায় মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় ফল ভোগ করছে কোচবিহার তথা গোটা উত্তরবঙ্গ। দিন দশেক আগেও যে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজি প্রতি ১৫ টাকা, এক লাফে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। শুধু পিঁয়াজ নয়, আলু, পটল, ঝিঙে, কাঁচালঙ্কা-সহ বর্ষাকালীন প্রায় সব আনাজের দাম বেড়ে গিয়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্ষার সময় আনাজের উৎপাদন সব সময় সমান থাকে না। সেই জন্য দামে হেরফের হয়। উদ্যানপালন দফতরের কোচবিহার জেলা আধিকারিক খুরশিদ আলম বলেন, “বর্ষায় পেঁয়াজের জন্য পুরোপুরি নাসিকের উপর নির্ভর করতে হয়। এই সময় বৃষ্টির জন্য অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যার জন্য পাইকারি ও খুচরো দুই বাজারেই দাম বেড়ে গিয়েছে।”

উদ্যানপালন দফতর সূত্রে খবর, কোচবিহারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। কিন্তু বর্ষার সময় জেলায় পেঁয়াজ চাষ হয় না। অন্য সময়ের উৎপাদিত পেঁয়াজ দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থাও জেলায় নেই। জেলায় উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে বছরের কয়েক মাস চালানো সম্ভব হয়। কোচবিহার জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক চাঁদমোহন সাহা বলেন, “পেঁয়াজের জন্য বেশির ভাগই আমরা ভিন রাজ্যের উপরে নির্ভরশীল। মহারাষ্ট্র থেকে ট্রাকে করে পিঁয়াজ আনা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ট্রাকের মধ্যেই পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। আবার ওই রাজ্যেই এ বার অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে বলে শুনেছি।” খুচরো আনাজ বিক্রেতা মদন দে বলেন, “পাইকারি পেঁয়াজের দাম বেড়ে গিয়েছে। তাই আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

পেঁয়াজের দাম কয়েকদিনের মধ্যে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় জেলায় পেঁয়াজ চাষ বাড়ানোর দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। সেক্ষেত্রে সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকা পেঁয়াজ চাষের উপযুক্ত আবহাওয়ার অভাব রয়েছে উদ্যানপালন দফতরের সূত্রে খবর। দফতরের এক কর্তা বলেন, “আমরা প্রতিবছর কিছু কিছু পেঁয়াজ চাষের জমি বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। বহুমুখী হিমঘর স্থাপনের ব্যাপারেও আলোচনা চলছে।”  পেঁয়াজের বাইরে কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা দাম বেড়েছে অন্য আনাজেরও। শুধু কোচবিহার নয় উত্তরবঙ্গের অন্য জেলার বাজারেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আনাজের দাম।

গড় বাজার দর

কোচবিহার বাজার: সাদা আলু ১২, ভুটান আলু ৩০, পটল ২৫, ঢ্যাঁড়স ২৫, ঝিঙে ২৫, বেগুন ২০, পেঁপে ২০, কাকরোল ২০, কাঁচালঙ্কা ৫০, বাঁধাকপি ৪০, কচু (একটি) ১৫-২০, ওল ৫০, কচুমুখী ২০, স্কোয়াশ ৩০