ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যের হাতে রাখি পরিয়ে সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা দিলেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। শিলিগুড়ি সংশোধনাগারে পাহাড়ে গোলমালের ঘটনায় অভিযুক্ত বিচারাধীন বন্দিদের হাতেও রাখি পরালেন তিনি।

সোমবার সকালে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্যোগে সংশোধনাগারে রাখি পালন করা হয়। পাহাড়ে আন্দোলনের জেরে গোলমালের ঘটনায় অভিযুক্ত মোর্চার সমর্থক প্রবেশ রাই-সহ রয়েছেন মোর্চার ২৫ জন কর্মী-সমর্থক। প্রবেশের হাতে রাখি পরিয়ে সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা দিলেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। তৃণমূলের মহিলা সংগঠনের সদস্য মন্দিরা গুপ্ত, বুলবুলি দাস, সঙ্গীতা দত্তরা এরপর অন্যান্য বন্দিদের সঙ্গে বিচারাধীন মোর্চার সমর্থকদের হাতেও রাখি পরিয়ে মিষ্টিমুখ করান। তাতে খুশি প্রবেশরা-ও।

পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘‘যারা বিভিন্ন কারণে জেল হেফাজতে রয়েছেন তারা আইনি প্রক্রিয়ার পর একসময় বাইরে আসবেন বলে আশি করি। রাখি পরিয়ে এ দিন মিলন, সম্প্রীতির দিন পালন করা হল। পাহাড়, সমতল এক হয়ে মিলেমিশে চলবে বলেই আমরা আশাবাদী।’’ ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন সরকার জানান, দার্জিলিংমোড়ে দলের উদ্যোগে রাখি বন্ধন পালন করা হয়। পাহাড়ের বাসিন্দা গাড়ির চালক, কর্মীদেরও তাঁরা এ দিন রাখি পরান। 

দুপুরে ছিল ফুলবাড়ির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে রাখি পালনের অনুষ্ঠান। তৃণমূলের ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি যুব সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। সেখানে সামিল হয়েছিল পঞ্চগড়-১ থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশের সংসদ সদস্য নাজমূল হক প্রধান, পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহসভাপতি এ টি এম কামরুজ্জামান-সহ চারজনের একটি প্রতিনিধি দল। গৌতমবাবু এবং নাজমুল হক অনুষ্ঠানে একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে দেন।

পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘‘কাঁটাতারের ঘেরা দিয়ে দুই দেশ ভাগ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, সংস্কৃতি এক। কাঁটাতার সেখানে বাধা হয়ে পারেনি।’’ তিনি জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়াগা সীমান্তের ধাঁচে ‘বিটিং রিট্রিট’-এর নিয়মিত অনুষ্ঠানের পরিকাঠামো ফুলবাড়ি সীমান্তে গড়ে তোলা হবে। অনুষ্ঠানে সামিল হন জলপাইগুড়ির সাংসদ বিজয় চন্দ্র বর্মন, ফুলবাড়ি কাস্টম, সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর আধিকারিকদের একাংশ। বাংলাদেশের সাংসদ খালি গলায় ধনধান্যে পুষ্পে ভরা গান, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ছড়া আবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, ‘‘রাখি আমাদের মিলনের উৎসব।’’