শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ধূপগুড়ির চামুর্চি চা বাগানে অজানা জ্বরে চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ বাগানের শতাধিক মানুষ এই মুহূর্তে জ্বরে আক্রান্ত বলে জানা গিয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের ডেঙ্গিও হয়েছে বলে সন্দেহ চিকিৎসকদের৷ যদিও জ্বরে বাগানে কারও মৃত্যু হয়েছে বলে মানতে চাননি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা৷ ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শনিবার জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক ও চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠক করেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা৷

জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ির চামুর্চি চা বাগানে গত প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে জ্বরের প্রকোপ চলছে৷ এরই মধ্যে শুক্রবার থেকে আচমকা একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে থাকে ওই বাগানে৷ খবর পেয়ে বাগানে ছুটে যান স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা৷ জ্বরে আক্রান্তদের রক্তের নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি ওষুধ দেওয়া হয়৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’দিনে ওই বাগানে যে চারজন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন তারা হলেন বলবীর বিশ্বকর্মা (৪০), বিজয় মাহালি (৫০), বসু মাহালি (৩২) ও বিনিতা লোহার (২৬)৷ এঁদের মধ্যে বসু মাহালি শুক্রবার মালবাজার হাসপাতালে মারা যান৷ এ দিন সকালে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে মৃত্যু হয় বিনিতা লোহারের৷

বলবীর বিশ্বকর্মার স্ত্রী কলি বলেন, ‘‘দু’দিন ধরেই স্বামীর জ্বর ছিল৷ শুক্রবার রাতে আচমকাই তা বেড়ে যায়৷ চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয়৷’’ বিনিতা লোহারের শ্বশুর স্বপন লোহার বলেন, ‘‘গত কয়েকদিন ধরেই আমার ছেলের বউয়ের জ্বর ছিল৷ সেই সঙ্গে গোটা শরীর ও গাঁটে গাঁটে ব্যাথা ছিল৷ শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তি করাই৷ এ দিন সকালে তার মৃত্যু হয়৷’’

যদিও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এই চারজনের কারও মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য কর্তারা৷ ধূপগুড়ির বিএমওএইচ সব্যসাচী মণ্ডল বলেন, ‘‘চারজনের মধ্যে তিনজন সম্পুর্ণ অন্য রোগে ভুগে মারা গিয়েছেন৷ একমাত্র মালবাজার হাসপাতালে যিনি মারা গিয়েছেন, তার মৃত্যুর সময় জ্বর ছিল৷ তবে সেটাও অন্য রোগের কারণে৷’’ যদিও বাগানের বাসিন্দারা অবশ্য তা মানছেন না৷ তাদের দাবি, গত মাসেও ওই বাগানে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে৷ বাগানের স্থানীয় এক চিকিৎসকও বলেন, ‘‘যারা মারা গিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেরই জ্বরের লক্ষ্মণ দেখা গিয়েছে৷ কিন্তু কি কারণে এই জ্বর বোঝা যাচ্ছে না৷’’

এ দিকে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় চামুর্চি বাগানে নিয়মিত স্বাস্থ্য শিবির করা হচ্ছে৷ ইতিমধ্যেই ওই বাগান এলাকায় শতাধিক মানুষের শরীর থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে৷ যাদের কয়েকজন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত বলেও সন্দেহ করছেন চিকিৎসকরা৷ জেলায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার বৈঠক করেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা৷ বৈঠকে সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মনও যোগ দেন৷  সিএমওএইচ জগন্নাথ সরকার সহ স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা ছিলেন৷