পাহাড় পরিস্থিতির জেরে ২০ শতাংশ যাত্রী হাতছাড়া হয়েছে রেলের। জুন-জুলাই মাসের পরিসংখ্যান দেখে এমনই জানতে পেরেছে রেল। এই ক্ষতি শুধু উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার বিভাগের। রবিবার নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) স্টেশনে এসেছিলেন কাটিহার বিভাগের সিনিয়র ডিভিশনাল কর্মাশিয়াল ম্যানেজার বীরেন্দ্র মিশ্র। তিনি বলেন, ‘‘ক্ষতি আরও অনেক হয়েছে। স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো রিপোর্ট এখনও তৈরি হয়নি। তবে প্রাথমিক যে রিপোর্ট এসেছে তাতে ২০ শতাংশ যাত্রী রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে বলেই দেখা যাচ্ছে।’’

গত ১৫ জুন থেকে পাহাড়ে লাগাতার বন্‌ধ চলছে। তারও আগে থেকে পাহাড়ে অফিস বন্‌ধের ডাক ছিল। তখন থেকেই বন্ধ টয়ট্রেনের চলাচল। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং এবং ফিরতি পথে যাত্রীবাহী টয়ট্রেন চলাচল তো বটে, দার্জিলিং থেকে ঘুম এবং সুকনা থেকে টয়ট্রেনের সব জয়রাইড বন্ধ। কয়েকটি স্টেশনও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে ক্ষতি তো হয়েছেই। সেই সঙ্গে দার্জিলিঙে আসা পর্যটকের সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে। পাহাড়ে অশান্তির প্রভাবে সিকিমেও পর্যটক যাওয়ার সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রেলের রাজস্বে। সিনিয়র ডিভিশনাল কর্মাশিয়াল ম্যানেজার বলেন, ‘‘দার্জিলিংই হোক বা গ্যাংটক, যে কোনও জায়গায় যেতে হলে এনজেপি-ই মূল স্টেশন। স্বাভাবিক ভাবেই যাত্রীদের আসা-যাওয়ার সংখ্যা কমেছে।’’

পাহাড়ের সব কটি টয়ট্রেন স্টেশনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে এ দিন জানানো হয়। রেলকর্মীরা নিরাপদে আছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। রবিবার এনজেপিতে পানীয় জলের ভেন্ডিং মেশিনের উদ্বোধন হয়েছে। স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মোট ৮টি ভেন্ডিং মেশিনের উদ্বোধন হয়েছে। সিনিয়র ডিভিশনাল কর্মাশিয়াল ম্যানেজার মেশিনের উদ্বোধন করেন। মূলত সাধারণ কামরার যাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই এই ভেন্ডিং মেশিন বসানো হয়েছে বলে রেলের দাবি। মাত্র ১ টাকায় তিনশো মিলিলিটার এবং ৫ টাকায় ১ লিটার জল পাওয়া যাবে এই মেশিনে। কাটিহার ডিভিশনের সব স্টেশনেই এই ভেন্ডিং মেশিন বসাতে চলেছে রেল।