ছাত্র সংসদের ভোট নির্বিঘ্নে করতে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিলিগুড়ি কলেজে, শিলিগুড়ি কমার্স কলেজ, বাগডোগরা কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কর্তৃপক্ষ। বুধবার তাঁরা এ কথা জানিয়েছেন। শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যক্ষের ঘর থেকে মনোনয়ন তোলার জায়গা, মনোনয়ন জমা করার জায়গা, বুথে ঢোকার জায়গা, কলেজের দু’টি গেট—সব মিলিয়ে অন্তত ১০টি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নির্বাচনের জন্যই অস্থায়ী ভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ওই ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাগুলি বসানো হবে। একই চিন্তা করছে নকশালবাড়ি কলেজ কর্তৃপক্ষও। শিলিগুড়ি কমার্স কলেজ কর্তৃপক্ষও শিলিগুড়ি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই ব্যবস্থা রাখবেন বলে জানিয়েছেন। বাগডোগরা কলেজে মনোনয়ন জমা থেকে নির্বাচনের দিন গণনা নিয়ে গোলমালের আশঙ্কা করছেন কর্তৃপক্ষ। সে কারণেও তাঁরাও ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানোর পক্ষে। শুক্রবার কলেজের সকলের সঙ্গে বিষয়টি নিযে আলোচনা করে তাঁরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান বাগডোগরা কলেজের অধ্যক্ষ শুভাশিস মিত্র। তবে সূর্যসেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রণব কুমার মিশ্র জানান, তাঁরা পুলিশি ব্যবস্থার উপরেই জোর দিচ্ছেন।

শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যক্ষ সুজিৎ ঘোষের বক্তব্য, পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা থাকলে পড়ুয়ারাও সতর্ক থাকবে। ক্যাম্পাসে কেউ কোনও গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করলে সহজেই চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। সে কারণেই ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, আই-কার্ড ছাড়াও ক্যাম্পাসে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

২৮ জানুয়ারি শিলিগুড়ির কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদের ভোট। ইতিমধ্যেই কলেজগুলিতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং তা সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। বস্তুত, মনোনয়নপত্র তোলার দিন থেকেই কলেজে নির্বাচন ঘিরে গোলমালের আশঙ্কা থাকে। সে কারণে তার আগেই ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসিয়ে ফেলতে চান কর্তৃপক্ষ। একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত বলে শিলিগুড়ি কমার্স কলেজে ভোট হবে ৩০ জানুয়ারি। ৬ জানুয়ারি পুলিশ প্রশাসনের তরফে কলেজ কর্তৃপক্ষদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের নিরাপত্তার বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওই দিন কলেজের ক্যান্টিন, প্রশাসনিক কাজকর্ম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে পুলিশের তরফে।