রাতে ফ্রায়েড রাইস ও আলুর দম৷ সকালে সব্জি দিয়ে আলুর পরোটা৷ দুপুরে ভাত, ডাল ও পটলের তরকারি৷ সঙ্গে ঠান্ডা জল৷ দেওয়া হয়েছে, ব্রাশ, টুথ পেস্ট থেকে শুরু করে স্যাম্পুর পাউচও৷ চাহিদা মেনে এত কিছু করেও বাবার খুন নিয়ে মেয়ের থেকে নতুন কোনও তথ্য বের করতে পারল না পুলিশ৷ ফলে এলআইসির ডেভেলপমেন্ট অফিসার উত্তম মোহান্ত খুনের ঘটনার তদন্ত শুক্রবার যেখানে দাঁড়িয়েছিল, থেকে গেল সেখানেই।

শনিবার আদালতে পেশ করার পর এই ঘটনায় আগেই গ্রেফতার হওয়া উত্তম মোহান্তের স্ত্রী লিপিকা ও চিকিৎসক ধনঞ্জয় চতুর্বেদীর জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা৷ আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে কেস ডায়েরি পেশ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয় আদালত৷ ফলে এ দিন খারিজ হলেও, মঙ্গলবার ফের জামিনের আবেদনের শুনানি হবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন৷ ২৯ জুন উত্তমবাবুর মৃত্যুর পর তাকে খুন করা হয়েছে বলে তাঁর দাদারা জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন৷ এর একদিন পরেই গ্রেফতার করা হয় তাঁর স্ত্রী লিপিকাকে৷ দু’দিন পর গ্রেফতার হন চিকিৎসক ধনঞ্জয় চতুর্বেদী৷ লিপিকার প্রেমিক অনির্বাণের কথাতে ওই চিকিৎসক উত্তমবাবুর মৃত্যুর পর ডেথ সার্টিফিকেট দেন বলে অভিযোগ৷ অনির্বাণ এখনও পলাতক৷

তবে গোটা ঘটনা চাঞ্চল্যকর মোড় নেয় গত বৃহস্পতিবার৷ ওইদিন উত্তমবাবুকে খুন ও খুনের ষড়যন্ত্রে সামিল হওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তার মেয়ে শ্বেতাকে৷ আদালতের নির্দেশে গত শুক্রবার থেকে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে৷ এর আগে টানা ১৩ দিন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন শ্বেতার মা লিপিকা৷ শ্বেতা রয়েছে দু’দিন৷ এই দু’দিনেই মা ও মেয়ের জীবন যাপনের অনেক পার্থক্য নজর কেড়েছে পুলিশ কর্মীদের৷ পুলিশ জানিয়েছে, হেফাজতে থাকার সময় প্রতিদিনই মাছ খেয়েছেন লিপিকা। মাংসও খেয়েছেন। কিন্তু মেয়ে পুলিশ কর্তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাবার মৃত্যুর জন্য তিনি এক মাস মাছ, মাংস, ডিম খাবেন না৷ তাই তার জন্য নিরামিশ পদেরই ব্যবস্থা করছেন পুলিশ কর্তারা৷ শুক্রবার রাতে আলুর দম দিয়ে ফ্রায়েড রাইস খাওয়ার পাশাপাশি শনিবার সকালে আলুর পরোটা দিয়ে টিফিন করেছে সে৷ এরপর দুপুরে আবার ভাত, ডাল, পাপর ভাজা ও পটলের তরকারি খেয়েছে শ্বেতা৷

এ দিন দুপুর আড়াইটা নাগাদ তাকে জেরা করা শুরু হয়৷ তবে আদালতের নির্দেশে এ দিন সেখানে একজন আইনজীবীও ছিলেন৷ সূত্রের খবর, আইনজীবীর উপস্থিতিতে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে জেরা চললেও নতুন কোন তথ্য মেলেনি।