সুইৎজারল্যান্ডের একটি সংস্থার পাইলট প্রজেক্টে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবে’র বাড়ির ওয়ার্ডকে বেছে নিল শিলিগুড়ি পুরসভা। সেই সঙ্গে বাছাই করা হয়েছে, প্রবীণ বাম নেত্রী স্নিগ্ধা হাজারার ওয়ার্ডকেও। পুরসভা সূত্রের খবর, মে মাস থেকে সংস্থাটি শিলিগুড়ির আবহাওয়া, দূষণ, পানীয় জল, জঞ্জাল অপসারণের মতো বিষয়গুলি নিয়ে কাজ শুরু করছে। গত শুক্রবার শহরের একটি হোটেলে সংস্থাটির তরফে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়। ‘জিরো ওয়েস্ট’ ওয়ার্ড হিসাবে পাইলট প্রজেক্টে পুরসভার তরফে শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডটি বাছাই করা হয়েছে। বহু বাম নেতানেত্রীর ওয়ার্ড তো বটেই অন্য দলের ওয়ার্ডকে বাদ নিয়ে মন্ত্রীর ওয়ার্ডকে বাছাই করায় পুরসভায় অন্দরেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মন্ত্রী ওই ওয়ার্ডে থাকতে পারেন। আমরা সে সব দেখিনি। পুরসভা ভবন এই ওয়ার্ডে। উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত মানুষ থাকেন। আর একটি ওয়ার্ডে, নিম্নবিত্ত, বস্তি-সহ ব্যবসায়িক এলাকা রয়েছে।’’ মেয়র জানান, সংস্থাটি দু’টি ওয়ার্ডকে জঞ্জালমুক্ত ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে তুলবে।

এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী গৌতমবাবুর বক্তব্য, ‘‘পুরসভা কী করছে জানা নেই। দেখা যাক কী হয়।’’ উল্লেখ্য, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মন্ত্রী স্ত্রী শুল্কা দেব। মন্ত্রী নিজেও একাধিকবার ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন।

পুরসভা সূত্রের খবর, সুইৎজারল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন নামের সংস্থাটি দেশের কোয়েম্বাটুর, রাজকোট, উদয়পুর এবং শিলিগুড়িকে প্রকল্পের কাজ করার জন্য বাছাই করেছে। দূষণ নিয়ে সংস্থাটি কাজও করেছে। ডিজেল থেকে কেরোসিন, বিদ্যুৎ, এলপিজি কোথায় কী ভাবে গ্যাস তৈরি হচ্ছে, তার হিসাবও করেছে সংস্থাটি। শহরের পানিট্যাঙ্কি মোড়, সেবক মোড় এবং মহানন্দা সেতু লাগোয়া মোড়ে ‘এয়ার পলিউশন’ নির্ধারণের যন্ত্র বসাচ্ছে। তেমনই, পানীয় জলের পাইপ লাইনে ‘লিক’ খুঁজে বার করতে ‘লিক ডিটেক্টিং মেশিন’ও পুরসভাকে দিচ্ছে সংস্থাটি। মেয়র জানান, সংস্থাটি পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়েও কাজ করবে। একটি রিপোর্টও দেবে। তাতে আগামী দিনে বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

এ দিন মেয়র জানিয়েছেন, এশিয়ান হাইয়ের-২ এবং দু’টি আরওবি-র জন্য শহরের জলের পাইপলাইনে পরিবর্তন করতে হবে। এর জন্য কয়েক দিন শহরের জল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। পুজোর আগে এ কাজ করা যাবে না। তার আগে শহরে সাড়ে ৩ কোটি টাকা খরচ করে ৬টি ডিপ টিউবওয়েল, ২০টি মার্ক টু হ্যান্ড পাম্প বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।