বন্‌ধে ধাক্কা কাটিয়ে সবে টুকটাক করে পর্যটক আসা শুরু হয়েছে দার্জিলিঙে। কিন্তু, আবহাওয়ার মতিগতি অস্থির হওয়ায় ফের বাধা পড়ল তাতে। যেমন, মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রায় দিনভর তুমুল বৃষ্টিতে নাজেহাল হয়ে যায় দার্জিলিঙের জনজীবন। পর্যটকরা প্রায় হোটেল থেকে বার হতেই পারেননি। ম্যাল ছিল পুরোপুরি সুনসান। রেস্তোরাঁ গুলিতেও ভিড় ছিল না। বৃষ্টি হচ্ছে সিকিমের নানা এলাকাতেও। সেখানেও সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকরা।

সিকিমের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই বঙ্গোপসাগরের উপর গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার থেকে তা পুরুলিয়া, বাঁকুড়া হয়ে ঝাড়খন্ড, বিহারের দিকে সরতে শুরু করেছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গের বহু এলাকায় আকাশে মেঘ এখনও জমা হয়ে রয়েছে। তা খুবই ধীরে ধীরে সরছে। তাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছে। আবার এই সময় মেঘমুক্ত আকাশ হলেই তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বিক্ষিপ্তভাবে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ দিন শিলিগুড়ির আকাশ ভোর থেকেই ছিল মেঘলা। ভোর ছ’টা থেকে ঘণ্টাখানেক ঝিরঝিরে বৃষ্টিও হয়েছে। অন্যদিনের মত দিনের বেলায় সূর্যের তেজও তেমন প্রখর ছিল না। বিকালের দিকে ফের কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি হয়েছে। গত ৩/৪ দিনের মতো না হওয়ায় স্বস্তিতে কেটেছে শহরবাসীর। এ দিন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রির কাছাকাছি। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই তাপমাত্রা অবশ্য অনেকটাই বেশি বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদেরা। আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি থাকছে।

তবে ভোর থেকেই ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মালদহের জনজীবনও। কাজের দিন হলেও রাস্তাঘাটের ছবি যেন ছুটির দিনের মতোই। বর্ষাকালের পরিবেশ তৈরি হয়েছে জেলায়। তবে টানা কয়েকদিন গরমের পর বৃষ্টিতে স্বস্তি পেয়েছেন জেলাবাসী। জানা গিয়েছে, এ দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা স্বাভাবিক থাকায় জেলাতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছেন না আবহাওয়াবিদেরা। তবে নিম্নচাপের ফলে মালদহে তাপমাত্রার পারদ আরও নামতে পারে বলে আশা তাঁদের।

কোচবিহারেও মেঘ ও রোদের লুকোচুরি খেলা চলল। সকালের আকাশ ছিল মেঘলা। ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হয়। এ দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি। সোমবার তা ছিল ২৪ ডিগ্রি। সর্ব্বোচ্চ তাপমাত্রা সোমবারের মত মঙ্গলবারেও ছিল ৩৩ ডিগ্রি। সকালের দিকে হাল্কা বৃষ্টি হয়। আজ, বুধবারেও হাল্কা বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

জলপাইগুড়ির আকাশও ছিল মেঘে ঢাকা। মাঝেমধ্যে কোথাও কোথাও দুই-এক ফোঁটা বৃষ্টি হলেও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তা থেমে গিয়েছে৷ রোদের তাপ না থাকায় গরম খানিকটা কমলেও, গুমোট ভাব রয়েই গিয়েছে৷ আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নাগরাকাটায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে৷ জলপাইগুড়িতেও বৃষ্টি হয়েছে ছিটেফোঁটা৷

 উত্তর দিনাজপুরের আকাশ মেঘলা থাকলেও সর্বত্র বৃষ্টি হয়নি। এ দিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, ইটাহার ও করণদিঘিতে কখনও ঝিরিঝিরি আবার কখনও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। দিনভর ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকায় এ দিন গরম কম অনুভূত হয়েছে।