বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া নিয়ে চাপানউতোর রয়েইছে। এ বার নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রের দু’টি প্রকল্পের নামই বদলে দিল রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর ওই ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করেছে। তাতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ)-এর নাম দেওয়া হয়েছে বাংলার গৃহ প্রকল্প। অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার নামকরণ করা হয়েছে বাংলার গ্রামীণ সড়ক যোজনা।

প্রশাসন সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের ওই নির্দেশিকায় রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সৌরভকুমার দাসের সই রয়েছে। চলতি মাসের ১২ তারিখ নির্দেশিকা জারি হয়। ১৮ এপ্রিল মঙ্গলবার কোচবিহারের বিভিন্ন দফতরে নির্দেশিকার কপি পৌঁছয়। প্রশাসন সূত্রের খবর, নির্দেশিকা পাবার পরেই জেলা পরিষদের তরফে ওই বিষয়টি জানিয়ে সমস্ত মহকুমা প্রশাসন থেকে পঞ্চায়েত সমিতি কর্তাদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, নির্দেশ নামায় (নম্বর ২৫৬ –এসিএস) নামবদলের বিষয়টি নিয়ে প্রচারের ব্যাপারেও গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। পোস্টার, ব্যানার, হোর্ডিংয়ের উল্লেখও রয়েছে। কোচবিহারের জেলাশাসক পি উল্গানাথন বলেন, “ওই ব্যাপারে নির্দেশিকা অনুযায়ী পদক্ষেপ করছি।” কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি পুষ্পিতা ডাকুয়া বলেন, “দু’টি প্রকল্পে রাজ্য সরকারেরও আর্থিক ভাগ রয়েছে। নতুন কাজে নতুন নাম ব্যবহার হবে। পুরানো কাজের বোর্ডেও সংস্কারের সময় নতুন নাম তুলে ধরা হবে।”

প্রশাসন সূত্রের খবর, ইন্দিরা আবাস (যা পরে হয় প্রধানমন্ত্রী আবাস) যোজনায় আগে ৭৫ শতাংশ কেন্দ্র ও রাজ্য ২৫ শতাংশ টাকা দিত। এখন মিলছে কেন্দ্রের ৬০, রাজ্য ৪০ শতাংশ দিচ্ছে। রাজ্যের তরফে সড়ক সহ বহু প্রকল্প বিজেপি জমানায় বরাদ্দ কমানোর অভিযোগও রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পঞ্চায়েত ভোটের আগে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরার ভাবনা থেকে ওই নাম বদল। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য হেমচন্দ্র বর্মন বলেন, “ সবই কেন্দ্রের কৃতিত্ব খাটো করার চেষ্টা।” আগে  আজিভিকা প্রকল্পের নাম বদলে আনন্দধারা ও স্বচ্ছ ভারত মিশন ( গ্রামীণ) প্রকল্পের নাম বদলে মিশন নির্মল বাংলা করা হয়। এক তৃণমূল নেতা বলেন, ইন্দিরা আবাস যোজনার নাম বদলে বিজেপি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা করেছে। এমন নজির একাধিক। তা হলে বরাদ্দ কমানর পরেও ওদের নাম নিয়ে থাকতে হবে কেন?