মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ঘিরে তোড়জোড় শুরু হাসিমারার মালঙ্গি লজে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশে তৈরি হয়েছে নতুন তিনটি কক্ষ। কোদালবস্তি রেঞ্জের এনইসি বিটের বড়োডাবরি ১ বি কম্পার্টমেন্টের জঙ্গল সংলগ্ন নতুন ঘরেই থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। লজের সামনে ফাঁকা জায়গায় হওয়ার কথা প্রশাসনিক বৈঠক। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি মোহন শর্মা জানান আগামী ২৫ এপ্রিল কোচবিহার থেকে হাসিমারা মালঙ্গি লজে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৬ এপ্রিল সেখানে প্রশাসনিক বৈঠক হওয়ার কথা। ২৭ এপ্রিল সুভাষিনী চা বাগানের ময়দানে জনসভা করবেন তিনি।

মালঙ্গি লজে গত বছর জুলাই মাসে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় সেখানে ছিল চারটি ঘর। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে সেখানে আরও তিনটি ঘর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। সেই নতুন ঘরগুলি এ বার তৈরি। রাজ্যের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে মালঙ্গি লজেই থাকবেন তিনি। অবসর সময় আঁকতে পারেন ছবি।

মালঙ্গি লজের নীচ তলায় রয়েছে গত বছর মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবি। এ বছরেও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি আঁকার ব্যবস্থা রাখবেন প্রশাসনিক কর্তারা। বন উন্নয়ন নিগমের বক্সা লগিং ডিভিশনের ডিএম শ্বেতা রাই জানান, মুখ্যমন্ত্রী আসার কথা রয়েছে। সে জন্য চলছে জোরকদমে প্রস্তুতি। মংপং থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি আঁকার জন্য ক্যানভাস সহ বিভিন্ন সামগ্রী আনানো হবে। মালঙ্গী লজের এক কর্মী জানান, গত বছর দোতলার ব্যালকনিতে বসে চা খেতে খেতে রংতুলি নিয়ে ক্যানভাস ভরিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর থাকার কথা জঙ্গল লাগোয়া নতুন ঘরে। চলছে সমস্ত ঘরগুলিতে রঙ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ঠিকঠাক করার কাজ। লজের বিশাল লনের জঙ্গল সাফাই করে লাগানো হবে ফুলগাছ। জলদাপাড়া বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও ভাস্কর জেভি জানান, মালঙ্গি লজের পাশের নর্থ ইস্ট কর্নার বিট অফিস। পাশের জঙ্গলে দেখা যায় গন্ডার ও বাইসন। মুখ্যন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত রাখা হবে সাফারির হাতি।

প্রশাসন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ২৪ এপ্রিল কোচবিহারে আসবেন। ওই দিন রাতে কোচবিহারে তিনি প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। পরদিন সরকারি প্রকল্পের বিভিন্ন সরঞ্জাম বিলি সহ একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। ২৫ এপ্রিল কোচবিহারের কর্মসূচি সেরে মুখ্যমন্ত্রীর আলিপুরদুয়ারে যাওয়ার কথা। ওই  প্রস্তুতির মধ্যেই মঙ্গলবার রাজ্যপালের সফরসূচির বার্তা পৌঁছয়। তারপরেই রাজ্যপালের সফর ঘিরে তোড়জোড় শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা হচ্ছে।