গত বছর আতসবাজি বিক্রির জন্য একটি বাজার নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল রায়গঞ্জ পুরসভা। তার বাইরে বাজি বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। তাতে শব্দবাজি বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা হয়েছিল পুরসভার। কিন্তু ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পুরসভার এই সিদ্ধান্তে তাঁদের বড় ক্ষতি হয়ে যায়। তার প্রধান কারণ, পুরসভার আতসবাজির বাজারে কেবল বড় ব্যবসায়ীরাই দোকান করার সুযোগ পেয়েছেন। সেই সংখ্যাটাও ছিল কম। কিন্তু তার বাইরে যে বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী আতসবাজি বিক্রি করেন, তাঁরা নিষেধাজ্ঞার কারণে একটাও বাজি বিক্রি করতে পারেননি। বিরাট লোকসান হয়েছিল তাঁদের। তাই ব্যবসায়ী সমিতির দাবি, এ বার আর আলাদা করে ‘আতসবাজি বাজার’ না করে, ছোট ব্যবসায়ীদেরও বাজি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হোক।

ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বছর বাজারের বাইরে আতসবাজি বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় শহরের কয়েকশো ব্যবসায়ী লোকসানের শিকার হন। ক্রেতারাও আতসবাজি কিনতে গিয়ে নানা হয়রানির মুখে পড়েন। ইতিমধ্যেই পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স ও রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাসের কাছে লিখিতভাবে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সমস্যার কথা জানিয়ে এ বছর আতসবাজি বাজার চালু না করার দাবি জানানো হয়েছে।

সন্দীপবাবুর অবশ্য দাবি, এ বছর দীপাবলি উত্সবে এখনও পর্যন্ত ‘আতসবাজি বাজার’ চালুর ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ী, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, পুরসভার তরফে গত বছর দীপাবলি উত্সবের আগে ও উত্সব চলাকালীন রায়গঞ্জের টাউনক্লাব মাঠে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অস্থায়ী আতসবাজি বাজার চালু রাখা হয়। ওই বাজারে শহরের মাত্র ৬৬ জন ব্যবসায়ী পুলিশের নজরদারিতে পুরসভার তৈরি করে দেওয়া স্টলে আতসবাজি বিক্রি করেন।

পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর কুণ্ডুর দাবি, শহরের চণ্ডীতলা থেকে কসবা মোড় পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি ব্যবসায়ী প্রতিবছর দীপাবলি উত্সবে নিজেদের বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে আতসবাজির ব্যবসাও করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ ব্যবসায়ী গত বছর পর্যাপ্ত স্টলের অভাবে অস্থায়ী আতসবাজি বাজারে যোগ দিতে পারেননি। আচমকা সরকারি নিষেধাজ্ঞার জেরে তাঁরা আগে থেকে কিনে রাখা আতসবাজি বিক্রিও করতে পারেননি। তাতেই তাঁরা চরম লোকসানের শিকার হন। তিনি বলেন, ‘‘ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এ বছর দীপাবলি উত্সবে পুরসভাকে আতসবাজি বাজার না করতে দাবি জানানো হয়েছে। তবে কোনও ব্যবসায়ী নিষিদ্ধ শব্দবাজির কারবার করলে সংগঠন তাঁর পাশে দাঁড়াবে না।’’

রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ীর বক্তব্য, বাসিন্দারাও দুর্ভোগের পড়েন। গত বছর শহরের বহু বাসিন্দা বাড়ির পাশের, পাড়ার ও স্থানীয় বাজারে আতসবাজি না পেয়ে হয়রানির মুখে পড়েন। তাই ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের স্বার্থে এ বছর যাতে শহরের সমস্ত ব্যবসায়ী আতসবাজি বিক্রি করতে পারেন, পুরসভার সে দিকে নজর দেওয়া উচিত। তবে কেউ নিষিদ্ধ শব্দবাজির কারবার করলে তাঁকে গ্রেফতার করুক পুলিশ।