দেড় মাসের ছেলেকে দিদি সাকিনাবিবির কাছে দিয়ে নিজে ডাক্তার দেখাতে ঢুকেছিলেন সুফিয়াবিবি। হাসপাতাল চত্বরে সাকিনাবিবর সঙ্গে তখন ভাব জমান এক মহিলা। সুফিয়াবিবির বাচ্চাকে তিনি কোলে তুলে আদরও করছিলেন। তারপরেই চোখের নিমেষে ওই শিশু নিয়ে পালিয়ে যান। সুফিয়া ও তাঁর দিদি সাকিনাবিবি ঝাড়খণ্ড থেকে চিকিৎসককে দেখাতে এসেছিলেন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তাঁরা ওই হাসপাতালের ভিড়ের মধ্যে আর বাচ্চাকে খুঁজে পাননি। পুলিশও সেই শিশুটিকে আর খুঁজে পায়নি।

সোমবার দুপুরে এই ঘটনার পরে হাসপাতালে হইচই পড়ে যায়। একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে মেডিক্যাল কলেজের নিরাপত্তা নিয়েও। এ দিনই মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ঝাড়খন্ডের পাকুড়ের জিকোরহাটি গ্রামের বাসিন্দা সুফিয়াবিবি ও তাঁর পরিবার।

সুফিয়াবিবি চর্মরোগের চিকিৎসা করাতে এদিন সকাল নটা নাগাদ হাজির হন হাসপাতালে। তাঁর স্বামী উকিল শেখ পেশায় দিন মজুর। তাঁদের চার ছেলে রয়েছে। এ দিন দেড় মাসের শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে সুফিয়াবিবি চিকিৎসার জন্য আসেন মেডিক্যালে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দিদি সকিনাবিবি সহ গ্রামের তিন মহিলা। সপ্তাহের প্রথম দিন বলে হাসপাতালে খুব ভিড়ও ছিল। দুপুর দু’টো নাগাদ সুফিয়াবিবি তাঁর দিদির সাকিনাকে ছেলে দিয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে ঢোকেন। সেই সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলা তাঁদের সঙ্গে ভাব জমায়। ছোট্ট শিশুকে আদর করতে করতে কোলে নেন ওই মহিলা। শিশুকে কোলে নিয়ে ওই মহিলা এদিক ওদিক ঘুরতে থাকেন। তারপরই শিশুটিকে কোলে নিয়ে ওই মহিলা উধাও হয়ে যান বলে অভিযোগ।

সুফিয়াবিবি বলেন, “কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।” সাকিনাবিবি বলেন, “ছাই রঙের শাড়ি পরেছিলেন ওই মহিলা। ছেলেকে কোলে নেয়। কিন্তু ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যাবে ভাবতেই পারিনি।’’ সুপার তথা সহ অধ্যক্ষ অমিতকুমার দাঁ বলেন, “সিসিটিভি রয়েছে। পুলিশ যা চাইবে, সব সাহায্য করা হবে।’’