তথ্য প্রমাণ লোপাট করতে স্বামীর মৃত্যুর পর তার লেখা ডায়েরি পুড়িয়ে ফেলেছিল স্ত্রী লিপিকা৷ উত্তম মোহান্ত খুনের ঘটনার তদন্তে রবিবার এমনটাই দাবি করল জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ৷ হেফাজতে থাকা উত্তমবাবুর মেয়ে শ্বেতাকে নিয়ে এদিন কদমতলা বাস স্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকার ভাড়া বাড়িতে যায় পুলিশ৷ সেখানে মায়ের লেখা একটি আধপোড়া চিঠি পুলিশের হাতে তুলে দেয় শ্বেতা৷ উত্তমবাবুর লেখা ডায়রির পোড়া অংশ অবশ্য উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ৷

গত ২৯ জুন এলআইসির ডেভেলপমেন্ট অফিসার উত্তমবাবুর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী লিপিকা ও লিপিকার প্রেমিক অনির্বাণের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তোলেন তাঁর দাদারা৷ ততক্ষণে অনির্বাণ পালিয়ে গেলেও ঘটনার পরের দিন গ্রেফতার করা হয় লিপিকাকে৷ দু’দিন পরে গ্রেফতার হন এক চিকিৎসকও৷ গত বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় উত্তমবাবুর মেয়ে শ্বেতাকেও৷ তিনি এই মুহূর্তে পুলিশের হেফাজতে৷

পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন দুপুরে শ্বেতাকে নিয়ে তাঁরা কদমতলা বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকার ভাড়া বাড়িতে যান৷ সেখানে গিয়েই পুলিশ জানতে পারে, উত্তমবাবু মাঝে মধ্যে বাড়িতে ডায়রি লিখতেন৷ কিন্তু মৃত্যুর পরপরই লিপিকা সেই ডায়রিটি পুড়িয়ে দেন বলে পুলিশের দাবি৷ তবে শ্বেতা এ দিন ওই বাড়ি থেকে আধপোড়া দু’টি কাগজ পুলিশের হাতে তুলে দেন৷ পুলিশ সূত্রের খবর, এই দু’টি কাগজের একটি লিপিকার লেখা চিঠি৷ যেটা দ্বিতীয়বার অনির্বাণের সঙ্গে পালানোর সময় তিনি উত্তমবাবুকে লিখেছিলেন৷ অপরটি ২০১৫ সালে দিনহাটা থানায় দায়ের করা উত্তমবাবুর একটি মিসিং ডায়রির রিসিভড কপি৷ পুলিশ জানিয়েছে, অনির্বাণের সঙ্গে পালানোর পরে পুলিশের কাছে ওই মিসিং ডায়রিটি করেছিলেন উত্তমবাবু৷ তবে অনেক খুঁজেও উত্তমবাবুর লেখা ডায়রির পোড়া অংশ খুঁজে পায়নি পুলিশ৷

এ দিন দিশারী ক্লাব ও উকিলপাড়া এলাকার দু’টি বাড়িতেও শ্বেতাকে নিয়ে যায় পুলিশ৷ জানা গিয়েছে, ওই দু’টি বাড়িতে এর আগে ভাড়া ছিলেন উত্তমবাবুরা৷ পুলিশের দাবি, ওই দুই বাড়িতে গিয়ে দুই মহিলার তারা সন্ধান পেয়েছেন৷ যারা অভিযোগ করেছেন, লিপিকাকে কাঠের বাটাম দিয়ে উত্তমবাবুকে আক্রমণ করতেও দেখেছেন তাঁরা৷

পুলিশ সূত্রের খবর, প্রথমদিকে খুব একটা সহযোগিতা না করলেও, এই মুহূর্তে জেরায় ভালই সাড়া দিচ্ছেন শ্বেতা৷ এ দিনও তাঁকে প্রায় দুই ঘণ্টা জেরা করা হয়৷ পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘জেরায় শ্বেতা এমনটাও বলেছে যে, সে তার বাবাকে খুন করেনি৷ কিংবা খুনের কোন ষড়যন্ত্রেও সে জড়িত নয়৷ কিন্তু তার মা যদি সেটা করে থাকে তবে মা শাস্তি পাক চায় সে৷’’