বিবাহ বিচ্ছিন্না এক মহিলাকে বিয়ে করতে ‘চাপ’ দিচ্ছিলেন মা। তাই নিয়ে মায়ের সঙ্গে ছেলের ঝগড়া৷ আর যার জেরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলেন ছেলে৷ জলপাইগুড়ির বেলাকোবার বামনপাড়ার শোভাভিটা গ্রামে রণেন রায় (২৪) নামে এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরে এমনই অভিযোগ উঠেছে। রণেনের আত্মহত্যার পর থেকেই বাড়ি থেকে রহস্যজনক ভাবে উধাও তাঁর মা৷ তবে সোমবার রাতে রণেনের ভাই দাবি করেন, তাঁদের মা এক মাসির বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন৷ সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে৷

পুলিশের কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ জমা পরেনি। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷ রণেন মূলত রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন৷ এ ছাড়াও মাঝে মধ্যে স্থানীয় একটি ক্ষুদ্র চা বাগানে অস্থায়ী শ্রমিকের কাজও করতেন৷ পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা থেকেই নিখোঁজ ছিলেন রণেন৷ এ দিন সকালে বাড়ির কাছে একটি ছোট চা বাগান থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়৷ তাঁর মৃতদেহের পাশে কীটনাশকের কৌটো, একটি বিয়ারের বোতল ও একটি ঠান্ডা পানীয়ের বোতল উদ্ধার হয়৷ যা দেখে প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, কীটনাশক খেয়েই আত্মহত্যা করেছেন ওই যুবক৷

বাড়িতে রণেন তাঁর বাবা-মা ও এক ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন৷ তাঁর ভাই স্বপন রায়ের অভিযোগ, ‘‘এক মহিলাকে বিয়ের জন্য মা কিছু দিন ধরে দাদাকে বলে যাচ্ছিল৷ কিন্তু দাদা বিয়েতে রাজি হচ্ছিলেন না৷ তাই নিয়ে মাঝেমধ্যেই মা ও দাদার মধ্যে ঝামেলা হত৷ রবিবারও তা হয়৷ তারপর সন্ধ্যাবেলা দাদা বেরিয়ে যায়৷ এ দিন তার দেহ মেলে৷’’

স্থানীয় সূত্রের খবর, মাস চারেক আগে এই বাড়িতেই স্বপনবাবুর স্ত্রী আত্মহত্যা করেন৷ যার জেরে সেই সময় স্বপনবাবু ও তাঁর মা-কে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ বেলাকোবা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কবিতা রায় বলেন, মাস কয়েক আগেই ওই বাড়িতে একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল৷ সে বার মা ও এক ছেলেকে পুলিশ গ্রেফতারও করে৷ এবার ওই বাড়িতেই আর এক ছেলের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল৷ তবে এবার কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও জানতে পারিনি৷ তবে শুনতে পাচ্ছি, মৃতের মা-ও এ দিন বাড়িতে নেই৷ পুলিশের এক কর্তা জানান, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তাঁরা গোটা ঘটনার তদন্ত করছেন৷