উদোর পিন্ডি বুধো কেন বইছে
 

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের প্রচারে ইউপিএ-র টু-জি দুর্নীতির বিষয়টি হাতিয়ার করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। অরুণ জেটলি কিন্তু তখন এই কেলেঙ্কারির আইনগত ব্যাপারে যুক্ত ছিলেন না। বেশি সক্রিয় ছিলেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। অরুণ যখন আইনমন্ত্রী ছিলেন তখনও এই মামলা নিয়ে মাথা ঘামাননি। অথচ এ বার যখন সিবিআই আদালত এই কেলেঙ্কারি নিয়ে বলে দিল যে কোনও প্রমাণ তারা দিতে পারছে না, যখন ডিএমকে আর অনিল অম্বানীর অফিসাররা সহ অভিযুক্ত সকলে রেহাই পেল, তখন অরুণ কেন এত আক্রমণাত্মক হয়ে বিজেপির মুখপাত্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন, সেটা আশ্চর্যের। নর্থ ব্লক-সাউথ ব্লকের অলিন্দে গুঞ্জন, মোদী নিজে অরুণকে অনুরোধ জানান। রবিশঙ্কর আইনমন্ত্রী হিসেবে ব্যর্থ কিন্তু অরুণের বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি। তাই তাঁকে কাজে লাগানো হল। অরুণ-ঘনিষ্ঠ, প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগিও অরুণের যুক্তির বিরুদ্ধে বললেন, কী কাণ্ড!

 

আলবিদা আহমেদ?

সনিয়া গাঁধীর রাজনৈতিক সচিব আহমেদ পটেল হাউহাউ করে কাঁদছেন, ভাবা যায়? কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তা-ই ঘটল। সভানেত্রী হিসেবে সনিয়ার শেষ দিন, রাহুল দায়িত্ব নিলেন। আহমেদ কেঁদে বললেন, এত দিন ম্যাডামের সঙ্গে কাজ করেছি। এখন অদ্ভুত এক অনুভূতি হচ্ছে।
২৪ আকবর রোডে গুজব, আহমেদ পটেলকে রাহুল পছন্দ করেন না, তাই তাঁর টিম থেকে তাঁকে সরাতে চান। শোনা যাচ্ছে, পুরনো বন্ধু ও ব্যক্তিগত সচিব— যাঁকে ২০১৪’র পর সরিয়ে দেওয়া হয়— কণিষ্ক সিংহ নাকি আবার রাহুলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হতে সচেষ্ট। রাজীব গাঁধীর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন ভিনসেন্ট জর্জ— তিনিও ক্ষমতার আলোয় ফিরে আসতে চাইছেন। আহমেদ পটেল, জনার্দন দ্বিবেদী, মতিলাল ভোরা, এঁরা কি তবে এ বার মার্গদর্শকমণ্ডলী?

 

বিতরণে পুণ্য

গোরক্ষপুরের ব্রাহ্মণ নেতা শিবপ্রতাপ শুক্লকে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর পদে বসিয়েছেন মোদী। যোগী আদিত্যনাথের এলাকার এই দাপুটে বিজেপি নেতা পরমহংস যোগানন্দের ভক্ত। মন্ত্রীমশাইয়ের সঙ্গে নানা প্রয়োজনে দেখা করতে আসা অনেকেই হাতে করে যোগানন্দের লেখা ‘অটোবায়োগ্রাফি অফ আ যোগী’ বা তার হিন্দি অনুবাদ ‘যোগী কথামৃত’ উপহার হিসেবে নিয়ে আসেন। মন্ত্রিমশাই একই বই এতগুলো নিয়ে করেন কী! অগত্যা তিনি সেই বই অন্যদের উপহার দিয়ে পড়ে দেখার উপদেশ দিচ্ছেন। সাধুবাক্য শ্রবণেও পুণ্য, বিতরণেও বটে।

 

ত্রস্ত চন্দ্র

তেলুগু দেশম সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নায়ডু এখন প্রধানমন্ত্রীর উপর রুষ্ট। লোকসভার ভোট আর দু’বছরও বাকি নেই, এখন এনডিএ-র শরিক চন্দ্রবাবুর অভিযোগ, অন্ধ্রের জন্য বরাদ্দ অর্থ থেকে কেন্দ্র তাদের বঞ্চিত করছে। এ দিকে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও মোদীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন, রাজ্যের জন্য নাকি চন্দ্রবাবুর চেয়ে বেশি টাকা আদায়ও করেছেন। এ দিকে অন্ধ্রপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা ভোটে বাবুর প্রধান প্রতিপক্ষ হতে চলেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাজশেখর রেড্ডির পুত্র জগন। জগন চন্দ্রবাবুর বিরুদ্ধে প্রচারে ঝড় তুলছেন। জগনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা আছে, তাই বিজেপি তাঁকেও ব্ল্যাকমেল করে রাখছে। জগন মোদীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন, বিরোধী ফ্রন্টে যোগ দিচ্ছেন না। চন্দ্রবাবুর শঙ্কা, বিজেপি জগনের সঙ্গেও যাওয়ার রাস্তা খোলা রাখছে। ক্ষুব্ধ ‘বাবু’ কমিউনিস্টদের সঙ্গে, এমনকী মমতার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। কী বিচিত্র এই রাজনীতি!

 

সবজিওয়ালা

ছিলেন আইএএস অফিসার, হলেন ‘সবজিওয়ালা’। ভাগ্যের ফেরে নয়, রীতিমত উদ্যোগী হয়ে। অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময় প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ডিরেক্টর ছিলেন মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের আইএএস প্রবেশ শর্মা। ইতিহাসের ছাত্র হয়েও কৃষিতে খুব উৎসাহ। চাষাবাদ নিয়ে গবেষণা করতে স্বেচ্ছা-অবসর নেন আমলার চাকরি থেকে।


উদ্যোগী: প্রবেশ শর্মা

এ বার পাড়ায় পাড়ায় সবজি বেচার জন্য স্টার্ট-আপ কোম্পানি খুলেছেন। তারই নাম ‘সবজিওয়ালা’। ঠেলাগাড়িতে, ফেরিওয়ালার হাত দিয়ে ক্ষেতের টাটকা শাকসবজি রান্নাঘরে পৌঁছে দিচ্ছে কোম্পানি। আপাতত দিল্লিতেই তাঁর ব্যবসা চলছে। রাজধানীর ক্ষমতার করিডরের অনেক আমলাই আজকাল শর্মাজির থেকেই বাজারহাট করছেন। সবাই খুশি!

 

নারীশক্তি

কর্নাটক পুলিশের প্রথম মহিলা ডিজি হলেন নীলমণি এন রাজু। দীর্ঘ দিন দিল্লিতে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে ছিলেন এই আইপিএস অফিসার, অ্যাডিশনাল ডিরেক্টরও হয়েছিলেন। কর্নাটকের মুখ্যসচিব পদেও এখন এক জন মহিলা আইএএস— কে রত্নপ্রভা। এই পদে অবশ্য আগেও টেরিজা ভট্টাচার্য, মালতী দাসের মতো মহিলা আইএএস-দের দেখা গিয়েছে। কিন্তু ডিজি এই প্রথম। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশের ডিজি দু’জনেই মহিলা, এমন উদাহরণ বিরল।

জয়ন্ত ঘোষাল, দিগন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাংশু চৌধুরী