একটা বিষয় দিন-দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে: অধ্যাপকগোষ্ঠীর উপর আমাদের রাজ্য সরকার বড় রুষ্ট, নানা ভাবে শিক্ষকদের বাগে আনতে, জব্দ করতে ব্যস্ত। শিক্ষকদের উপর রুষ্ট হওয়ার অনেক সঙ্গত কারণ আছে। তাঁদের সকলে সমান নিষ্ঠাবান নন, বিশেষত টিউশন ব্যবসায় অনেকেই নিমজ্জিত। সুযোগ পেলেও সকলে গবেষণা করেন না (অনেকে সুযোগের লেশমাত্র পান না)। স্বীকার করতেই হয়, যাঁরা পাঁচ বছর অতিরিক্ত চাকরির সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের সকলে অসামান্য নন।

এই অবধি সব ঠিক ছিল: বলা যেত সরকার উৎকর্ষসাধনে ব্রতী, তাই এত কড়াকড়ি। মুশকিল এই, এত দিন তাঁরা এত ভিন্নমুখী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এত অবিমৃশ্যকারী পরিবর্তন ঘটিয়েছেন, এবং এত জরুরি কাজ ফেলে রেখেছেন, যে রাজ্যের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা বেহাল। আগের সরকার শিক্ষার কম ক্ষতি করে যাননি— সর্বোপরি, রাজনীতির রাজপথ খুলে দিয়ে ভবিষ্যতে (অর্থাৎ আজকের বর্তমানে) যে কোনও অনাচারের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এটুকু কেবল বলা চলে, তাঁরা শিক্ষাব্যবস্থায় নিজেদের লোক ঢুকিয়ে ক্ষান্ত ছিলেন, কাঠামো নিয়ে বড় নাড়াচাড়া করেননি। ফলে অশেষ অন্যায়-অনাচার সত্ত্বেও রাজ্যের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা এক রকম চলমান ছিল, এমনকী ক্ষেত্রবিশেষে যথেষ্ট উন্নতি করেছিল। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপটের মুখে যে ক’টি রাজ্য-বিশ্ববিদ্যালয় আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে, বঙ্গের কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বাগ্রে। টাইমস হায়ার এডুকেশনের মূল্যায়নে, কয়েকটি আইআইটি বাদে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পর পর তিন বছর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সবার আগে, কলকাতাও প্রথম সারিতে। এটা কোনও চটজলদি মূল্যায়ন নয়, বিগত অনেক বছরের কাজের হিসাবে। বর্তমান সরকার যে এ বিষয়ে আদৌ অবগত তার লক্ষণ মেলেনি। অনেক দুঃখে বলতে হচ্ছে, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা যে পথে পরিচালিত হচ্ছে তাতে এই শিরোপা কত দিন ধরে রাখা যাবে বলা শক্ত।

বর্তমান শিক্ষককুলের গুণাগুণ সম্বন্ধে আরও দু-চার কথা না বললে নয়। এঁদের একটা বড় অংশ, বিশেষত নগণ্য বেতনের অস্থায়ী ও আংশিক সময়ের শিক্ষক, নির্ধারিত কাজের ঢের বেশি তুলে দেন, যার অনেক কিছু কোনও মতেই তাঁদের ‘জব ডেসক্রিপশন’-এর অঙ্গ নয়। যে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গুনে সরকার শ্লাঘা বোধ করেন, তাদের সবগুলিতেই শিক্ষকের আকাল; পুরনোগুলিতে এক-তৃতীয়াংশ পদ ফাঁকা। এই প্রতিকূল অবস্থায়, নিজেদেরও নানা ত্রুটিবিচ্যুতি সত্ত্বেও (বিশেষত একাংশের বেলাগাম টিউশন-প্রিয়তা) বঙ্গের শিক্ষকবাহিনী এক ভাবে লেখাপড়া চালু রেখেছেন, কেউ কেউ সাধ্যমত গবেষণাও করছেন। কলেজ শিক্ষকদের রচনা সংবলিত যথেষ্ট উচ্চমানের কিছু গবেষণা-সংকলন সম্প্রতি হাতে এল। এই শিক্ষককুলের প্রতি সরকারের আর একটু সৌজন্য ও নৈতিক সমর্থন, তাঁদের সমস্যা নিয়ে খোলা মনে আলোচনায় বসা, প্রত্যাশা করা অন্যায় নয়।

শিক্ষা বড় বেয়াড়া ব্যাপার। তামাম দুনিয়ার অভিজ্ঞতা বলে, অঙ্কের হিসাবে বা লাঠির আস্ফালনে তার উন্নতি ঘটে না। শিক্ষক নামক জীবদের খোঁয়াড়ে পুরে খড়ের আঁটি ফেলে দিলে তারা বিগড়ে যায়, মাঠে চরতে না দিলেই নয়। তাতে কখনও তারা অখাদ্য খেয়ে মরে, কখনও ঢুঁসিয়ে মানুষ জখম করে; কিন্তু দুধের জোগান নিশ্চিত করার এটাই একমাত্র উপায়। ‘বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান’ গড়তে কেন্দ্র-রাজ্য সব শাসকই উদ্বাহু, কিন্তু অনুসন্ধিৎসু মনের স্বাধীন বিস্তার যে তার সব চেয়ে মৌলিক উপাদান, এটা মানতে তাঁরা অপারগ। হিতৈষী অভিভাবক যেমন শিশুকে ধমকান, ‘মুখস্থ করছিস শুনতে পাই যেন, নইলে দেব দুই চাঁটি’, শিক্ষকবর্গের প্রতি কর্তাদের মনোভাবও তাই। এতে ছাত্র-মাস্টার কেউ উজ্জীবিত হয় না।

অধ্যাপকদের দিনভর কলেজে আটকে, ছুটি বাতিল করে শিক্ষার উৎকর্ষ ঘটানো যায় না, বরং বিদ্যাচর্চার বিঘ্ন ঘটে। নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, সময় মতো পরীক্ষার নম্বর জমা দেওয়া (যা সব শিক্ষক করেন না) অবশ্যই জরুরি, কিন্তু দুটো ব্যাপার গুলিয়ে ফেললে চলবে না। যান্ত্রিক হাজিরা বা ছুটি বাতিলের বিরুদ্ধে যাঁরা সরব, তাঁদের অনেকের কাজে ঘাটতি থাকতে পারে, থাকতে পারে রাজনৈতিক স্বার্থ; কিন্তু তাঁদের যুক্তিটা সে জন্য মিথ্যা হয়ে যায় না। সেই যুক্তির মর্যাদা দিয়ে, তার বিচারে সব শিক্ষকের যথার্থ মূল্যায়নের ব্যবস্থাই হতে পারে শিক্ষায় উন্নতিসাধনের একমাত্র উপায়।

প্রস্তুতির জন্য শিক্ষকরা যে অবকাশ দাবি করেন, অনেকে তার সদ্ব্যবহার করেন না। অবকাশের প্রয়োজন সে জন্য দূর হয় না, সেটা কেড়ে নিলে নিষ্ঠাবান শিক্ষকেরও শিক্ষাদানে বিঘ্ন ঘটবে। গবেষণার ক্ষেত্রে কথাটা আরও বহুগুণ খাটে। গবেষণার তাগিদে শিক্ষকদের পাঠাগার-লেখ্যাগারে, বিজ্ঞানকেন্দ্রে, মাঠে-ময়দানে ঘুরতে হয়। অক্সফোর্ড বা হার্ভার্ডের অধ্যাপকও বলতে পারবেন না, তাঁর গবেষণার সব রসদ নিজের প্রতিষ্ঠানে মিলবে: বিষয়ের তাগিদেই অনেক সময় সেটা অসম্ভব। বিদ্যাচর্চার স্বার্থেই ক্লাসের সময়, পরীক্ষাগ্রহণ ইত্যাদি আনুষঙ্গিক কাজের সময় (করণিকের অভাবে ফাইল ঘাঁটা নয়), ছাত্রদের জন্য কিছু ‘কনট্যাক্ট আওয়ার্স’ বাদ দিয়ে বাকি সময়টা শিক্ষকদের নিজেদের হাতে ছেড়ে দেওয়া একান্ত জরুরি।

এই স্বাধীনতার সদ্ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা অবশ্যই দেখতে হবে। তার একটা উপায় ছাত্রদের ‘ফিডব্যাক’ (ক্লাসে হাজিরা নয়— ছাত্রেরা নানা কারণে অনুপস্থিত থাকে, ছাত্র-রাজনীতি তার অন্যতম; বরং যে ছাত্রের হাজিরা কম, তার ফিডব্যাক নেওয়াই উচিত নয়)। আর আসল প্রমাণ অবশ্যই মিলবে গবেষণা ও অন্য সারস্বত কাজের খতিয়ানে।

এমন ব্যবস্থায় ‘অসুবিধা’ দুটো। এক, সে ক্ষেত্রে গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিকাঠামো সর্বত্র সৃষ্টি করতে হয়। দুই, কাজের খতিয়ানের সঙ্গে শিক্ষকদের পদোন্নতি বা অন্যান্য সুবিধাদান যুক্ত করতে হয়। পুনর্নিয়োগ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী যতই কড়া কথা বলুন, সত্যিকারের মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে কোনও শাসকদল সহজে সায় দেবেন না, কারণ শিক্ষককুলের যে অংশের পঠনপাঠন বা গবেষণার চেয়ে রাজনীতিই প্রধান অবলম্বন, তাঁদের এতে সমূহ বিপদ।

গুণমান দূরে থাক, শিক্ষকদের সংখ্যায় ঘাটতি এক উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন প্রতিষ্ঠানগুলিতে স্থায়ী শিক্ষক নেই বললেই চলে। প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে খালি পদের সংখ্যা মোটামুটি এক-তৃতীয়াংশ। অনেক কলেজে সাম্মানিক পঠনপাঠন চলছে মাত্র এক জন পূর্ণ সময়ের বা পুরোপুরি আংশিক সময়ের শিক্ষক দিয়ে। ছাত্রসমাজের সঙ্গে এটা এক ধরনের প্রতারণা।

একটা বেদনাদায়ক স্মৃতি মনে পড়ছে। ২০১১ সালে নতুন সরকার রাজ্যপালের মাধ্যমে আদেশ জারি করে সব নতুন নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। সেই নিষেধ দীর্ঘ দিন বলবৎ ছিল। তার গোড়ায় অল্প দিন রাজ্য সরকার গঠিত উচ্চশিক্ষা বিষয়ক একটি কমিটির আমি সদস্য ছিলাম। স্বভাবতই কমিটি সচেষ্ট হয়েছিল, জট ছাড়িয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া ফের চালু করতে। কিন্তু স্পষ্ট ইঙ্গিত এল তা করা চলবে না, নিয়োগ যেন বন্ধই থাকে, পাছে সেই পথে আগের রাজত্বের অবাঞ্ছিত প্রভাব ঢুকে পড়ে। এর ফলে দ্বাদশ পরিকল্পনা খাতে বহু সাধনায় পাওয়া একগুচ্ছ নতুন পদ অপূর্ণ থেকে তামাদি হয়ে গেল— কেবল যাদবপুরেই তিরিশ-চল্লিশটা, সারা রাজ্যে নিশ্চয় শয়ের ঘরে। নিষেধ ওঠার পরও অন্য বহু বাধা কাজ করে চলেছে: সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। বহু মেধাবী হবু-শিক্ষক আজও নিষ্ফল প্রতীক্ষায় বসে— কেউ কর্মহীন, কেউ আংশিক সময়ের শিক্ষক, কেউ স্বল্পমেয়াদের প্রকল্পকর্মী। এদের কেউ-কেউ বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিপ্রাপ্ত, যে কারণেই হোক স্বভূমে কাজ করতে আগ্রহী। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে (কলেজের কথা ছেড়ে দিলাম) ডজন-ডজন পদ ফাঁকা, স্নাতকোত্তর স্তরে অনেক বিশেষ বিষয় পড়াবার লোক নেই; কিন্তু ছোট-বড়, গ্রাহ্য-অগ্রাহ্য, প্রশাসনিক-রাজনৈতিক অশেষ কারণে বছরের পর বছর নিয়োগ বন্ধ। আজ যদি রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব পালটায়, ফলে হুজুগের মতো পাইকারি হারে নিয়োগ হয়, তার ফলও শুভ হবে না।

চুয়াল্লিশ বছরের শিক্ষকজীবনে এমন অবস্থা দেখার সৌভাগ্য হয়নি, যখন সরকার সক্রিয়ভাবে শিক্ষার উন্নতি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেছে, শিক্ষাপরিচালনা রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। ভূতপূর্ব শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় এমনকী ন্যক্কারজনক কাজের তালিকা অতি দীর্ঘ। তবু তখন কতকগুলি স্থিরতা ও অভ্যস্ত বিধান বর্তমান ছিল, ফলে দৈনন্দিন কাজ তো বটেই, অন্তত কোনও কোনও প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পও সাহস করে হাতে নেওয়া গেছে, প্রভাবশালী সহকর্মী হিসাবে পাওয়া গেছে কিছু বিদ্যোৎসাহী বা যথার্থ পণ্ডিত। তেমন লোক আজও শাসকসান্নিধ্যে থাকতে পারেন (তাঁদের কেউ কেউ আগের জমানার অন্যায়-অবিচারের শিকার)। কিন্তু গত ক’বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে বিতর্ক, অনিশ্চয়তা, একুশে আইন প্রণয়ন, আবার তার প্রয়োগ নিয়ে একচোট বিভ্রান্তি— এক কথায় দিশাহারা অস্থৈর্যের এক নতুন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এতে ক্লাস-পড়ানো বিপর্যস্ত হচ্ছে, গবেষণার ক্ষতি হচ্ছে আরও বেশি মাত্রায়। চোখের সামনে দেখছি, বহু মানুষের চেষ্টায়, বহু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়সাধন করে দশ বছরে যে গবেষণাকেন্দ্র গড়ে উঠেছে, একাধিক সূত্রে ঠাঁই পেয়েছে বিশ্বসেরার পংক্তিতে, কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় তিন মাসে তা বিধ্বস্ত, প্রবীণরা বিতাড়িত বা কোণঠাসা, নবীনরা জীবিকার তাগিদে ভিনরাজ্যগামী।

দুটি মোক্ষম দৃষ্টান্তই যথেষ্ট, অনেকের মতো এই প্রবন্ধকার তা নিয়ে আগেও নিষ্ফল রোদন করেছে। একটি হল, পাঁচ বছর যাবৎ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিধি (স্ট্যাটিউটস) নেই। তার অনেক বিষময় ফলের মধ্যে একটি, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শিক্ষক-প্রতিনিধিদের ভূমিকা নেই। যদি বা বহু বিলম্বে সেই বিধি সরকারের হাত ঘুরে ফিরে এল, দেখা গেল তাতে যুক্ত হয়েছে অসঙ্গত ও শিক্ষাবিরোধী এমন ধারা, যার অবশ্যম্ভাবী প্রতিবাদে পুরো বিধিটাই আটকে গেল। শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে এটা ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’: বিশ্ববিদ্যালয় বিধি গ্রহণ করলে কেল্লা ফতে, না করলে অনিশ্চিত হতোদ্যম অবস্থা চলতে থাকবে, শিক্ষায়তনের স্বাধীন পরিমণ্ডল গড়ে ওঠা আরও অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর খাতাকলমে বাধা না থাকলেও ব্যাহত হবে সুষ্ঠু অবাধ শিক্ষকনিয়োগ।

একই কথা খাটে সরকারের একটি মারাত্মক সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে: বিভিন্ন শাখার ডিন নিযুক্ত হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় নয়, কার্যত সরকারের গঠিত ও চালিত একটি কমিটির দ্বারা। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ডিনের গুরুত্ব অপরিসীম, দৈনন্দিন পঠনপাঠনের স্তরে উপাচার্যের চেয়েও বেশি। তাঁদের নির্বাচনের এই পদ্ধতি এমনিতেই অবাস্তব; উপরন্তু যে কমিটিগুলির উপর এই গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত, তাদের বিরুদ্ধে নানা আপাতগ্রাহ্য অভিযোগ উঠছে, প্রতিবাদ এমনকী মামলা দায়ের হচ্ছে, নিয়োগ যাচ্ছে থমকে। ফলে (এ ক্ষেত্রেও যদিচ আইনি বাধা নেই) অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগও কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এই মুহূর্তে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ডিন নেই, অস্থায়ীদের অবস্থান অনিশ্চিত। এটাও শাসকের পক্ষে ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’। তার সপক্ষে যে যে যুক্তি থাকতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয় বা সেখানকার লেখাপড়া-গবেষণার মঙ্গল তার মধ্যে পড়ে না।

এই পরিস্থিতি কি সরকার মেপেবুঝে সৃষ্টি করছে, না কি এক-একটা আলটপকা সিদ্ধান্তের সামাল দিতে ফের আর একটা করে নিয়ে চলেছে? উত্তর জানলে কৌতূহল মিটতে পারে, ফল কিন্তু উভয় ক্ষেত্রে এক। মনে রাখতে হবে, সারা দেশেই উচ্চশিক্ষার দুর্দিন চলছে। আজ পশ্চিমবঙ্গে যা দেখছি, অধিকাংশ রাজ্যে আগেই তা ঘটে গেছে; উপরন্তু দিল্লির অসহিষ্ণু ও শিক্ষা-সংকোচক নীতিতে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নাস্তানাবুদ, বাকিগুলিও অনুদানের অভাবে ও নানা এলোমেলো ফরমানে বিপর্যস্ত। এমন অবস্থায় পূর্ণ সদিচ্ছা থাকলেও রাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলি রক্ষা করা সহজ নয়; বাস্তবে তেমন চেষ্টার লক্ষণমাত্র দেখা যাচ্ছে না। বরং ‘বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের’ নিদারুণ দৃষ্টান্তে উভয় সরকার যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে, উচ্চশিক্ষাকেন্দ্রগুলি বিদ্যাচর্চার বদলে শক্তিপ্রদর্শনের আঙিনায় রূপান্তরিত করতে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে এমেরিটাস অধ্যাপক