অনুষ্কা শর্মার প্রোডাকশন থেকে সকালেই ফোনটা এসেছিল। আজই মুম্বই পৌঁছতে হবে। ‘বস’ খুব শিগগিরি শুট শুরু করবেন। এক দিনও দেরি করা যাবে না।

লেডি বস অনুষ্কা

ফোনের এ পারে যিনি তাঁর নাম ঋতাভরী চক্রবর্তী। ধূম জ্বর নিয়ে সে দিনই তাঁকে মুম্বই পৌঁছতে হয়েছিল। কারণ একটাই, ‘লেডি বস’ যে আর কেউ নয়, খোদ অনুষ্কা শর্মা! প্রথম প্রযোজনাতেই দুঃস্বপ্নের হাইওয়েতে যিনি একা বল্লম হাতে ছুটেছিলেন।

সাসপেন্স এবং গা ছমছমে ভয়ের মিশেলে রীতিমতো ভয়প্রদ তাঁর নতুন ছবি ‘পরি’। অভিনেত্রীর হোম-প্রোডাকশন ‘ক্লিন স্লেট ফিল্মস’-এর তৃতীয় প্রযোজনা এই ছবি। অভিনয়ে থাকছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ঋতাভরী চক্রবর্তী এবং রজত কপূর।
‘‘লুক টেস্টের পর অনুষ্কার ভাই কারনেশ শর্মা জানায় আমরা এক সঙ্গে কাজ করছি! আমি আজ থেকে ওদের পরিবারের অংশ। তখন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারিনি। জ্বর গায়ে লুক টেস্ট দিতে গিয়ে উলটে মনে হচ্ছিল ঠিক হবে তো সব!’’ স্বস্তির উচ্ছ্বাস নিয়ে বললেন ঋতাভরী। সদ্যই প্রকাশিত হয়েছে ‘পরি’-র টিজার আর রিলিজ ডেট। অনুষ্কার রক্তাক্ত মুখ দেখে এখনই রাতের ঘুম ছুটেছে অনেকের।

‘পরি’-তে ঋতাভরীর চরিত্রের নাম ‘পিয়ালি’। নিজের মেক-আপ ভ্যানের বাইরে দাঁড়িয়ে অভিনেত্রী। 

নায়িকার ইমেজ ভাঙছেন অনুষ্কা

ঋতাভরীর মতে, এমন হরর ছবি বলিউড খুব কমই দেখেছে। বললেন, ‘‘অসম্ভব শ্রদ্ধা করি ওর স্পিরিটকে। মেন স্ট্রিমে যে মেয়ের খোলা চুলের ইশারায় সকলকে মুগ্ধ করে রাখে, সেই মেয়ে নিজের প্রোডাকশন হাউজে একের পর এক ভিন্ন ধারার, ইমেজ ভাঙা ছবি করে যাচ্ছে! ভাবা যায় না! নায়িকারা তো নিজেদের ইমেজ ধরে রাখতেই চায়’’।

বলিউড-টলিউড-টেলিউডের হিট খবর জানতে চান? সাপ্তাহিক বিনোদন সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

‘পরি’ নিয়ে প্রথম কথা

সোশ্যাল মিডিয়ায় টিজার লঞ্চের পর 'পরি' নিয়ে বলার জন্যে প্রচুর ফোন আসছে তাঁর কাছে। কিন্তু প্রোডাকশন হাউজের কড়া পাহাড়ায় এখনও তিনি চুপ। মুখ খুললেন প্রথম আনন্দবাজার ডিজিটালের জন্যে।

রুল বইয়ের বাইরে বেরিয়ে হৃদয় দিয়ে স্টেপ ইন করতে অভ্যস্ত ঋতাভরী এত দিনে যেন স্বপ্নের পথে পা বাড়ালেন। ধারাবাহিক ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ থেকে মডেলিং, ফোটো শুটে সকলের নজর কাড়লেও তাঁর খোলামেলা পোশাক, ঘন ঘন সোস্যাল মিডিয়ায় বিদেশ ভ্রমণের ছবি আপলোড- সব নিয়ে টলিপাড়ায় তাঁকে নিয়ে নানা রকম ফিসফাস চলতেই থাকতো। ‘‘আশা করি ‘পরি’-তে আমার অভিনয় দেখার পর আমার অভিনয়ের খিদে নিয়ে আর কোনও প্রশ্ন উঠবে না’’, সাফ জানালেন ঋতাভরী।

শুটিংয়ের ফাঁকে ঋতাভরী। পাশে বসে রয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

ফ্লোরে অনুষ্কাকে দেখে দশ মিনিট চুপ

অনুষ্কার কথা উঠতেই তাঁর কণ্ঠস্বরে উচ্ছ্বাস। ‘পরি’র প্রথম দিনের প্রথম শট তাঁকে অনুষ্কার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। "আমি তো অনুষ্কাকে সোজাসুজি বলেই দিয়েছিলাম। আমি স্টার স্টাক হয়ে গেছি। কিছু ক্ষণ কথা বলতে পারব না। আমি শুধু হা করে কিছু ক্ষণ ওর দিকে তাকিয়েই ছিলাম। পরে অনুষ্কাই আমায় হাগ করে কথা বলতে শুরু করে"।

আরও পড়ুন, এ বারের দোলে অনুষ্কার ‘পরী’ আতঙ্ক!

অনুষ্কা বলে উঠলেন মা বকবে

ঋতাভরী বলছেন, অনুষ্কা আক্ষরিক অর্থে একজন সুপার ওম্যান। কিন্তু ফ্লোরে থাকলে, ওকে দেখে সেটা বোঝাই যায় না। একদিনের কথা বললেন ঋতাভরী। ‘‘পরির ফ্লোরে ও আমাদের সঙ্গে বসেই লাঞ্চ করত। ওর লাঞ্চ বাড়ি থেকে আসত। আর ওর মা যা পাঠাতেন, ও সেটাই খেত। এমন হয়েছে শট চলছে, লাঞ্চের দেরি হয়ে যাচ্ছে। ও হঠাৎ পরিচালককে বলে বসল— আরে লাঞ্চ বল, এ বার খাবার না শেষ করলে মা রেগে যাবে। বকবে।’’

বিয়ে করতে করতেও শুটের চিন্তা

কলকাতার অভিনেত্রীর মুম্বইয়ের তারকাকে ভীষণই স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। যখনই কোথাও আটকেছে, অনুষ্কা তাকে সহজ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। সঙ্গে থেকেছেন। তাঁর প্রোডাকশনের ছবি। অথচ কোথাও মনে হয়নি তিনি বস্। ডি ও পি থেকে মেক আপ ম্যান, কারওর কাজে নাক গলান না তিনি। তবে টিমের অন্যান্য অভিনেতাদের অভিনয় নিয়ে তিনি খুব সচেতন। ‘‘কেবল নিজে ফাটিয়ে দেব এই মনোভাব নিয়ে ও ছবি করে না,’’ বললেন ঋতাভরী। ইতালিতে বিয়ে করতে গিয়েও ‘পরি’-র শুটে ঋতাভরীর কস্টিউম নিয়ে পরিচালককে টেক্সট করে গিয়েছেন।

‘পরি’র পোস্টারে অনুষ্কা। 

পুরনো আনন্দলোক দেখলেন অনুষ্কা

খুব কম কথা বলেন অনুষ্কা। সেটে হাসি ঠাট্টা করলেও সারা ক্ষণ নিজের কাজের ভাবনায় থাকেন। একটা মজার ঘটনা বললেন ঋতাভরী, ‘‘সেটের মধ্যেই একটা পুরনো আনন্দলোক রাখা ছিল। অনুষ্কা সেটার পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে একজনের ছবি দেখিয়ে আমায় বলল— এত সুন্দরী, কে ইনি? আমি বললাম রচনা ব্যানার্জি।’’ স্বতঃস্ফূর্ত অনুষ্কাকে খুব মনে ধরেছে তাঁর।

আরও পড়ুন, ফের বিয়ে করবেন বিরাট-অনুষ্কা?

শুটিং ফ্লোরে বিরাট নয়

নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করেন তিনি। এত কিছু সামলায় কী করে অনুষ্কা?

‘পরি’-র শুট চলছে যখন, এক দিকে ‘হ্যারি মেট সেজল’-এর রিলিজ ডেট ডিক্লেয়ার হয়ে গেছে, ‘জিরো’ নিয়ে শাহরুখের সঙ্গে ডেটের কথা হচ্ছে। তার মধ্যে ‘পরি’-র শুট। প্রোডাকশনের দায়িত্ব। ‘‘অনুষ্কাই আসল সুপার ওম্যান’’ বলে ওঠেন ঋতাভরী। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, এই কারণেই অনুষ্কা সেটে মাঝেই মাঝেই একদম চুপ করে যেতেন। কী যেন ভাবতেন। প্লট? ছবির প্ল্যানিং? বিরাটের কথা?

নাহ! ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নিজের ইউনিটে তিনি মুখ খোলেন না। শুধু যখন তাঁকে ‘পরি’-র দ্বিতীয় লিড অ্যাক্টর ‘লেডি বস’ বলে সম্বোধন করেছিলেন, ঋতাভরীর কাছে তখন অনুষ্কা জানতে চেয়েছিলেন, ‘‘লেডি বস কী খারাপ। অনেক ছেলেরা আজও লেডি বসকে মানতে পারে না’’।

ছবিতে ঋতাভরী কে?

ঋতাভরী জানালেন টিজারের পর সব্বাই ভেবেছেন তিনি অনুষ্কা শর্মার বোন।

আসলে কী?

চরিত্র বিশদ ভাবে না বললেও জানালেন, ছবিতে তাঁর নাম পিয়ালি। এমন কিছু অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে তাঁকে যেতে হয় যে অল্পবয়সী মেয়ের উচ্ছ্বাস তার মধ্যে আর নেই। পিয়ালি বয়সের চেয়ে অনেক পরিণত এক চরিত্র।
বরাবর খুঁজেছিলেন এমনই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। বোঝাতে গিয়ে বললেন, ‘‘ভাবুন তো কহানি-র বব বিশ্বাস’’।
কিন্তু এই চরিত্রের জন্য নাকি টলিউডের আরও দুই কন্যে অনুষ্কার প্রডাকশন হাউজে অডিশন দিতে গিয়েছিলেন? তাঁদের ছাড়িয়ে বাদ দিয়ে ঋতাভরী তাঁর বলি ডেবিউ করে ফেললেন...

শুটিং ইউনিটের সঙ্গে ঋতাভরী।

প্রশ্ন শুনেই আঁতকে উঠলেন যেন। টলিপাড়ার কে অডিশন দিতে গিয়েছিলেন সে বিষয়ে কুলুপ এঁটে বললেন, ‘‘একটা কথাই বলতে পারি। এই যে লোকে বলে ভাল কাজের জন্য একে ধরতে হবে, অমুকের সঙ্গে কফি খেতে হবে, এ সব ভুল। ভাল কাজ করে যেতে পারলে ডাক আসবেই। আমার ‘নেকেড’ দেখেই কল্কির কাছে ‘পরি’ র জন্য ওরা আমার নম্বর চেয়েছিল।’’
‘পরি’-র রক্তাক্ত যাত্রায় অনুষ্কা-সঙ্গী হয়ে তিনি আরব সাগরের বুকে স্বপ্ন আঁকছেন।

এ বছর দোলের আবিরে রক্ত!