তিনি ‘মাইকেল’। হ্যাঁ, এটাই আপাতত তাঁর পরিচয়। আর পাঁচটা দৈনন্দিন কাজের ভিড়ে এখন ‘মাইকেল’ হয়েই অনেকটা সময় বাঁচছেন মীর। সৌজন্যে পরিচালক সত্রাজিত্ সেন। ৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেল তাঁর ছবি ‘মাইকেল’। যেখানে নাম ভূমিকায় মীরকে দেখবেন দর্শক। ছবি মুক্তির আগে নিজের থুড়ি ‘মাইকেল’-এর জীবনের চার নারীকে নিয়ে মুখ খুললেন মীর। ব্যক্তিগত আলাপ ডানা মেলল সিনেমার অন্দরেও।

জাবরা ফ্যান

এক কথায় বলতে গেলে আমি স্বস্তিকার জাবরা ফ্যান। খুব কম মানুষই স্বস্তিকার মতো নিজের ট্যালেন্ট ক্যারি করতে পারেন। বেসিক্যালি স্বস্তিকা বড়পর্দায় ছড়ায় না। স্বস্তিকা ক্যামেরার আসা মানেই একটা আলাদা ডাইমেনশন অ্যাড হবেই।


‘মাইকেল’-এর একটি দৃশ্যে স্বস্তিকা।

শিঞ্জিনী-মাইকেলের দাম্পত্য

এই স্বস্তিকা অর্থাত্ শিঞ্জিনী হল মাইকেলের বেটার হাফ। মাইকেল যে সব স্বপ্ন দেখে তা শিঞ্জিনীর কাছে মাঝেমধ্যে উদ্ভট লাগে। ও আসলে চাকরির কমফর্ট জোনের ভাবনা থেকে বেরতে পারে না। ও ভাবে কেন মাইকেলকে সুখে থাকতে ভুতে কিলোয় যাতে চাকরি ছেড়ে ছবি তৈরি করতে চায় সে? ও আসলে ভাবে, একটু সেফ খেললে ক্ষতি কী? তবে মাইকেলের স্বপ্ন সত্যি হোক, এটাও চায় শিঞ্জিনী। মাইকেল তো স্বপ্ন সফলের উদ্দেশ্যে ছবি শুরু করে। অন্যোনোপায় হয়ে ছবি শেষ করতে গিয়ে ফিল্ম না ফ্যামিলি— এই টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে যায়। তখন শিঞ্জিনীর মন ভেঙে যায়। মাইকেলকে ছেড়ে চলে যায় শিঞ্জিনী। তার পর? এই কৌতূহলটা রিলিজের আগে পর্যন্ত থাক বরং। আমি রিভিল করব না।

আরও পড়ুন, ‘জীবনে কত প্রেমিকাকে যে না বলতে হয়েছে…’

তনুশ্রীর জন্য দেবের লাথি

তনুশ্রীর জন্য আমি দেবের লাথি খেয়েছি। কোনও গল্প নয়, এটাই সত্যি। বিরসা দাশগুপ্তের ‘অভিশপ্ত নাইটি’ বলে একটা ছবিতে আমি এক লম্পট প্রযোজকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। আর তনুশ্রীর নাম ছিল অপ্সরা। ইনফ্যাক্ট আমার ফোনে তনুশ্রীর নম্বর এখনও ‘তনুশ্রী অপ্সরা’ নামেই সেভ করা রয়েছে। সেই ছবির লাস্ট সিনে তনুশ্রীর জন্য দেব আমাকে সলিড লাথি মেরেছিল। যাঁরা ছবিটা দেখেছেন, জানেন। আমার মনে হয়, ডিরেক্টর ঠিক মতো ইউজ করতে পারলে শি ইজ আ বম্ব। আসলে একের পর এক ছবিতে তনুশ্রীকে আরও ম্যাচিওর অভিনয় করতে দেখছি আমি। ‘মাইকেল’ সেই লিস্টে নতুন এন্ট্রি।


‘মাইকেল’-এর একটি দৃশ্যে তনুশ্রী।

মেহের খন্না

তনুশ্রী এই ছবি মেহের খন্না। আর মেহের না থাকলে ইন্টারভ্যালের আগেই ফুরিয়ে যেত মাইকেল। মেহের ছবি প্রোডিউস করতে চায়। পাশাপাশি নায়িকাও হতে চায়। সেই আবদার রাখতে গিয়ে মাইকেলের শিঞ্জিনীর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। মাইকেলের জন্য মেহের স্যাক্রিফাইসও করে। ওর একটা বড় বদল আসে। কী বদল? সেটা তো হলে গিয়ে দেখতে হবে।

আরও পড়ুন, ‘শট রেডি, ডাকতে আসবে, কিন্তু উঠব না, এ ভাবেই মরতে চাই’

পুলিশের মার

মীর কোনওদিন পুলিশের মার খায়নি। আর লেডি পুলিশ তো একেবারেই নয়। অরুণিমার জন্য ‘মাইকেল’-এ সেটাও হয়ে গেল এ বার। হা হা হা…। ও আরও একজন এমন অভিনেত্রী যাকে ইন্ডাস্ট্রি খুব কম ইউজ করেছে। এক কথায় নো ট্যানট্রাম লেডি।


অরুণিমা ঘোষ।

তুমি ফুরিয়ে যাওনি

অরুণিমা মানে ‘টিনা’ না থাকলে মাইকেলের ময়ূরবাহনের (এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়) সঙ্গে দেখাই হত না। ছবির শেষে যখন মাইকেলের জীবন তছনছ হয়ে যায় তখন এই টিনাই ওকে বলে, তুমি ফুরিয়ে যাওনি। তবে হ্যাঁ, পরিচালকের নির্দেশে বেশ মিষ্টি এই পুলিশ অফিসার যখন মাইকেলের মাথা টেবিলে ঠুকে দেয়, তখন খুব লেগেছিল কিন্তু।

আরও পড়ুন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক কম্প্রোমাইজ করতে হয়’

সায়নীর মাথায় গন্ডগোল

সায়নীর থেকে সায়নীর বাবা পরিবেশবিদ সুভাষ দত্তের সঙ্গে আমার বেশি কথা হয়। ওর সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। ওকে এর আগে ফেসবুকে দেখেছি। মোটামোটি পার্টি সার্কিটে প্রথম পাঁচজনের মধ্যে সায়নী থাকবেই। আমি ভাবি, সুভাষদা সারাক্ষণ পরিবেশ নিয়ে কথা বলছেন। মামলা লড়ছেন। সেখানে তাঁর মেয়ে, বিন্দাস। অভিনয়টা ফাটিয়ে করে। তবে ওর মাথায় কিছুটা, না না, বেশ খানিকটা গন্ডগোল আছে।


সায়নী দত্ত।

‘ফস্কে’ নাকি ‘ফক্সে’

এই ছবিতে সায়নী হল মাইকেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট। রানী। কানে কম শোনো। ফলে ভুলভাল বকে বেশি। বাংলা, ইংরেজি দুটো ভাষাতেই গন্ডগোল করে। ‘ফস্কের জায়গায় বলে ‘ফক্সে’। তবে ডিরেক্টর মাইকেলের আবার রানিকে ছাড়াও চলে না।

আরও পড়ুন, আপনার স্বামীর নাম? উত্তর দিলেন কাঞ্চনা

এই হল আমার অর্থাত্ ‘মাইকেল’-এর জীবনের চার নারী। ‘মীর’-এর জীবনেরও। হা হা…। এদের সঙ্গে সম্পর্কের প্রাথমিক লেয়ারটা শেয়ার করলাম। ডিটেলে জানতে গেলে সিনেমাটা দেখতে হবে বস।