দুটো শব্দ বলছি, ‘প্রজাপতি বিস্কুট’। ব্যাখ্যা করুন প্লিজ…
শান্তনু: ছোটবেলা। প্রজাপতি বিস্কুট শুনলে প্রথমেই এটা মনে পড়ে আমার। গরমের ছুটির কলকাতা। পিসির বাড়ি। একটা ফ্যানটাস্টিক ওয়ার্ল্ড ছিল সেটা।

চায়ের সঙ্গে প্রজাপতি বিস্কুট খেয়েছেন কখনও?
শান্তনু: অফকোর্স। দিল্লি থেকে যখন কলকাতায় আসতাম ছোটবেলায় তখন খেয়েছি। আমার স্মৃতিতে এখনও সেই টেস্ট রয়েছে। আসলে রাজধানী এক্সপ্রেসে করে আসা, দূর থেকে কখন হাওড়া ব্রিজ দেখতে পাব… চারদিকে সকলে বাংলায় কথা বলছেন… কোথায় কোথায় ঘুরতে যাব তার প্ল্যান। আসলে একটা সেন্স অফ ফ্রিডম বলতে পারেন।

অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের ‘প্রজাপতি বিস্কুট’-এ গানঘরের দায়িত্ব আপনার। কেমন স্বাদের গান শুনবেন দর্শক?
শান্তনু: অনিন্দ্যর মধ্যে সামহাউ হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের একটা টাচ আছে। ওর ছবিটাও খুব সিম্পল। গানগুলোও। কোনও আইটেম সং পাবেন না। আমার তো মনে হয় ভাল লাগবে সকলের।

আরও পড়ুন, দুর্গার আগেই কার্তিক চলে আসছেন ‘প্রজাপতি বিস্কুট’ নিয়ে

এই ছবির কোন গানটা সবচেয়ে পছন্দের?
শান্তনু: … ‘সাবধানে’ নামের একটা গান আছে। আমি জানি না কী আছে গানটায়, কিন্তু কিছু একটা আছে। আর যেভাবে সিনেমাতে ব্যবহার করা হয়েছে… দারুণ।  

গান তৈরির সময় বিশেষ কিছু মাথায় রেখেছিলেন?
শান্তনু: ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন। আসলে এখানে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর আগে হয়েছে। সেটা করতে করতে কিছু সুর বেরিয়ে আসছিল। তারপর গান হয়েছে। গল্পের থেকে গান। গল্প করতে করতেই হয়েছে।

কী ভাব‌ে?
শান্তনু: আমি অনিন্দ্যকে মুম্বইতে আমার সঙ্গে ৮-১০ দিন থাকতে রিকোয়েস্ট করেছিলাম। ও এসেছিল। আমার বাড়িটা বিচের ওপর। সমুদ্র দেখা যায়। ধরুন বিকেলে চা নিয়ে বারান্দায় বসলাম, কোনও আইডিয়া বের হল। এক সঙ্গে রান্না করা, ঘোরা, ড্রাইভিং করতে করতে অনেক সুর হয়েছে। স্টুডিওর বাইরেও তো অনেক আলোচনা হয়। ফলে অর্গানিক ভাবে কাজ করতে পারাটা আমার কাছে বিরাট পাওনা। এমনটা গুলজারও করতেন। পঞ্চমের সঙ্গে ড্রাইভ করতে করতে বা চাট খেতে খেতে কত যে সুরের জন্ম হয়েছে…। গুলজারের একটা কথা আছে ‘অ্যাপয়নমেন্ট লে কে গানে নেহি হো সাকতে’— আমি নিজের জীবনেও মেনে চলি।

আরও পড়ুন, কোয়েলের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করলেন দেব

বহু দিন পর একটা অনুষ্ঠানে কলকাতায় এসেছিলেন। গুলজার ছিলেন। কেমন অনুভূতি হল?
শান্তনু: আমার তো মনে হয় না, ভারতে আর কোনও শহর রয়েছে যেখানে আড়াই ঘণ্টা ধরে কেউ আবৃত্তি করছে, আর হল ভর্তি লোক শুনছে। এ শুধুমাত্র কলকাতাতেই সম্ভব। একজন কবির জন্য বাইরে ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে! ভাবা যায়!   

‘প্রজাপতি বিস্কুট’-এর গান ইতিমধ্যেই দর্শকদের ভাল লাগছে। মূলত সিনেমার গান এখন দর্শক পছন্দ করেন। তবে কি প্রাইভেট অ্যালবামের যুগ শেষ?
শান্তনু: আমার এটা ভাবলে সত্যিই খুব খারাপ লাগে। ভারত এমন একটা দেশ, কত লেগাসি আছে বলুন। ক্লাসিক্যাল, ফোক, গজল— কত ডিভিশন। সেখানে সিনেমার গান একটা পার্ট হতে পারে। কিন্তু আমরা শুধুই সিনেমার গান করছি। এমনকী কোনও আলোচনাতেও শুধু ফিল্মের গান নিয়েই আলোচনা হচ্ছে!

রিয়্যালিটি শো-তেও তো সকলে পুরনো গান গাইছেন।
শান্তনু: ওদের তো দোষ দিয়ে লাভ নেই। নতুন কিছু নেই তো। ওরা কী করবে? বরং রিয়্যালিটি শো অফ কম্পোজারস্— একটা নতুন আইডিয়া হতে পারে কিন্তু। তবে এর মূল্য আমাদের দিতে হবে।

গান তৈরির ফাঁকে শান্তনু ও অনিন্দ্য। ছবি: উইন্ডোজ প্রোডাকশনের সৌজন্যে।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার কী উপায়?
শান্তনু: দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। অন্তত কলকাতায় নন-ফিল্মি গান বেশি বিক্রি হয়। রবীন্দ্রসঙ্গীতে একটা অল্টারনেটিভ জনার আছে। আমার তো মনে হয় স্কুলে বেসিক ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ক্লাস শুরু করা যেতে পারে। বার্থডে পার্টিতে সিনেমার গান বাজানো বন্ধ করা যেতে পারে। চেঞ্জ তো আমাদেরকেই করতে হবে।  

রিয়্যালিটি শো-এর কথা উঠল। আপনাকে বহু বার বিচারকের আসনে দেখা গিয়েছে। সত্যিই কি এই শো গুলো গায়ক তৈরির উপযুক্ত মঞ্চ?
শান্তনু: আপনাকে একটা সত্যি ঘটনার কথা বলি। সাত-আট বছর আগে তখন লিটল চ্যাম্পস করছিলাম। একটা বাচ্চা ছেলে ছিল। একদিন আমি আইফোনে কী একটা করছি, ও এল। বলল, এটা কী? এটাতে কী হয়? আমি তো ভাবছি, বম্বের একটা বাচ্চা ফোন দেখেনি? খোঁজ নিয়ে জানলাম, শিয়ালদা স্টেশনের বাইরে একটা জায়গায় ওর বাবা সুটকেস সেলাই করে। আমি ওর বাবার সঙ্গে দেখা করে জানলাম, ওরা এক বেলা খেতে পায় না। কিন্তু ছেলের জন্য একজন গানের টিচার রাখতে চায়। আই ওয়াজ মুভড। ছেলেটা আট নম্বরে এসে বাদ পড়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনার তিন বছর কলকাতায় গিয়েছি। ওরা দেখা করতে এসেছিল। ছেলেটার বাবা বলল, বাড়ি কিনেছে। ওই শো-এর পর ছেলে প্রচুর প্রোগ্রাম পাচ্ছে। এ বার আমাকে বলুন, একটা রিয়্যালিটি শো যদি এটা করতে পারে, তা হলে নয় কেন?

আরও পড়ুন, গৌরব আমার প্রথম প্রেম নয়, বললেন ঋদ্ধিমা

রিয়্যালিটি শো-এ শিশুদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হচ্ছে চারদিকে। আপনি শিশুদের উপস্থিতি সমর্থন করেন?
শান্তনু: এক কথায় তো এটার উত্তর হয় না। আবার এক্সপিরিয়েন্স শেয়ার করতে পারি। দেখুন, আমি এমন বাবা-মাকে দেখেছি যাঁরা পাগলের মতো চান, যাতে তাঁদের সন্তান উইনার হয়। এতে বাচ্চাটা ট্রমাটাইসড হয়ে যায়। এটা তাঁদের কাছে সোশ্যাল স্টেটাসের প্রশ্ন। নিজেদের ইচ্ছে ছিল, তা পূরণ করতে পারেননি। আবার এমন বাবা-মা আছেন, যাঁরা ছেলে আউট হয়ে যাওয়ার পর তাকে বলেছেন, যাও বন্ধুদের অল দ্য বেস্ট বলে এস। আই হ্যাভ সিন বোথ। ফলে এটা পুরোটাই ডিপেন্ড করে বাবা-মায়ের ওপর। টেক ইট অ্যাজ আ স্পোর্ট… অ্যাজ অ্যান এন্টারটেনমেন্ট প্রোগ্রাম। তবে হ্যাঁ, বিকেল পাঁচটা-ছ’টার মধ্যে বাচ্চাদের শুটিং প্যাক আপ করে দেওয়া উচিত। যাতে ওরা খেলতে পারে।