চার দিন নয়, কান্দির পার-রসড়া ঘোষ পরিবারের পুজো চলে সাতাশ দিন। এক-আধ বছর নয়, এ ভাবে প্রায় ৯০০ বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে ঘোষ পরিবারে।

ঘোষ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আদতে উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বাসিন্দা সৌমেশ্বর ঘোষ ৯০০ বছর আগে ভরতপুরের জজান গ্রামে এসে জমিদারির পত্তন করেন। এক ছেলে সানন্দ জজান লাগোয়া পার-রসড়াতে বসবাস শুরু করেন। অন্য জন সীমন্ত বর্তমানে কান্দি পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রসড়াতে বসবাস শুরু করেন। সেই সময় ওই দু’এলাকায় জঙ্গলে ভরা। জঙ্গল পরিষ্কার করে দু’ভাই বসতি শুরু করায় পার-রসড়ার নাম ছিল সানন্দবাটী ও রসড়া নাম ছিল সীমন্তবাটী। পরিবর্তীকালে সীমন্তবাটী এলাকায় রসেশ্বর শিব মন্দির প্রতিষ্ঠানের পর সীমন্তবাটীর নাম পরিবর্তন হয়ে রসড়া নাম হয় ও সানন্দবাটীর নাম হয় পার-রসড়া। স্বপ্নাদেশ জমিদার সানন্দ ঘোষ নিজের বাড়িতে চর্তুভুজা দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। শুরু থেকেই ওই পুজো ষষ্ঠীর ১৪দিন দেবীদুর্গার বোধনের আগের দিন ঝড়-বৃষ্টির দেবতা জীমূতবাহনের পুজো দিয়ে দেবী চণ্ডীর আরাধনা শুরু হয়। সেই দিন থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত পুজো হয়। এবং দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের পর আটদিন পরে জল থেকে কাঠামো তুলে ফের মন্দিরে নিয়ে গিয়ে দিনভর পুজো হয়। তবে ওই ঘোষ পরিবারের দুর্গা দশভুজা নন। তিনি চতুর্ভুজা। কয়েকশো বছর ধরে পুজো-আচ্চার ওই রীতি রেওয়াজ মেনেই চলে আসছে বলে দাবি ঘোষ পরিবারের বর্তমান সদস্যদের।

আরও পড়ুন: শূন্যে গুলি ছুড়ে সপ্তমী

ওই পুজোর শুরু থেকেই পাঁঠা বলির রেওয়াজ থাকলেও দেবীর স্বপ্নাদেশেই সেই বলিও উঠে যায় দেড়শো বছর আগে। ঘোষ পরিবারের বর্তমান কর্ত্রী যোগমায়া ঘোষ বলেন, “বড়দের কাছে শুনেছি সানন্দ ঘোষের এক বংশধরকে দেবী স্বপ্ন দিয়ে জানান, কোনও জননীর পক্ষে সন্তানের রক্তপান সম্ভব নয়, ফলে পুজোতে বলি যেন না দেওয়া হয়। সেই থেকেই বলি উঠে যায়।”

আরও পড়ুন: পঞ্চাশ বছরে হরেক আকর্ষণ

আগে বোধনে, সপ্তমী, অষ্টমী, ও মহাসন্ধী পুজো ও নবমীতে মোট পাঁচটি পাঁঠা বলি হতো। সে সব উঠেগিয়ে বর্তমানে দশমীর দিন পুজোর শেষে ঘট বিসর্জনের পর মন্দিরের বাইরে একটি চালকুমড়ো বলি দেওয়ার রেওয়াজ আছে। বেসরকারি সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী প্রদ্যুতকুমার ঘোষ বলেন, “জীমূতবাহনের ওই পুজো থেকেই আমাদের দুর্গা পুজো শুরু। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার পর আট দিন ফের ওই কাঠামো মন্দিতে প্রতিষ্ঠা করে পুজো হওয়ার পর পুজো সমাপ্ত হয়।”