পিছু হটছে সুপ্রিম কোর্ট। গ্রেফতার খোদ প্রধান বিচারপতিই। পার্লামেন্টে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেনা-পুলিশ। গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গায়ুমকে। গোটা দ্বীপরাষ্ট্রে়ই চলছে অবাধ ধরপাকড়। সিঁদুরে মেঘ দেখছে পর্যটন শিল্পও। ১৫ দিনের জরুরিঅবস্থা যে কোন জায়গায় যেতে পারে, গোড়াতেই তা বুঝিয়ে দিলেন মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন।

কাল মাঝরাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট। আর তার পর-পরই গ্রেফতার করা হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আবদুল্লা সইদ ও  বিচারক আলি হামিদকে। গ্রেফতারির কারণ? আজ দিনের শুরুতেই প্রেসি়ডেন্ট  জানান— সুপ্রিম কোর্ট তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করছিল। বিরোধী দলনেতা তথা নির্বাসিত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাশিদ আবার পাল্টা অভ্যুত্থানের অভিযোগ এনেছেন ইয়ামিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে।  ২০১২-য় সেনা অভ্যুত্থানের জেরেই পদ খোয়াতে হয়েছিল নাশিদকে। দেশের টালমাটাল পরিস্থিতিতে নিজের রাজনৈতিক অধিকারে মরিয়া তিনি। এ বছরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন রয়েছে দেশে। নাশিদের চ্যালেঞ্জের মুখে গদি বাঁচাতে তৎপর ইয়ামিনও।

রাতে পিছু হটেছে শীর্ষ আদালতও। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির যে আদেশ নিয়ে ইয়ামিন সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন তা খারিজ করে দিয়েছেন শীর্ষ আদালতের অবশিষ্ট তিন বিচারপতি। গত সপ্তাহে নাশিদ-সহ বিরোধী দলের ৯ জন রাজবন্দিকে ছেড়ে দিতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে ১২ জন বরখাস্ত হওয়া এমপিকেও পুনরায় বহালের নির্দেশ এসেছিল।

এই রায় কোর্টের ‘এক্তিয়ার বহির্ভূত’ মন্তব্য করে তা মানতে চায়নি ইয়ামিনের প্রশাসন। উল্টে, প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করতে চাইছে বলে সুপ্রিম কোর্টকেই হুঁশিয়ারি দেন দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল। কাল জরুরিঅবস্থা জারি করে দেশবাসীর অন্তত ২০টি সাংবিধানিক অধিকার সাসপেন্ড করেছেন ইয়ামিন। কার্যত ঠুঁটো করে রেখেছেন বিচারব্যবস্থাকে। তাই ইমপিচমেন্টের প্রশ্নই উঠছে না।

তা হলে কি এমনটাই চলতে থাকবে? প্রেসিডেন্টের ইস্তফা দাবি করেছেন নাশিদ। পাশাপাশি দেশের অচলাবস্থা কাটাতে আজই ভারতের কাছে সামরিক সাহায্য চেয়েছেন তিনি। মলদ্বীপে রাজনৈতিক বন্দিমুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের সশরীর হাজিরাও চেয়েছেন নাশিদ। আর আমেরিকার কাছে তাঁর আর্জি— মার্কিন ব্যাঙ্কে শাসদ দলের নেতাদের লেনদেন বন্ধ করা হোক। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। আমেরিকা জানিয়েছে, গোটা বিশ্ব মলদ্বীপের পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। নিজেদের হতাশা ব্যক্ত করে মলদ্বীপ সরকারকে সু্প্রিম কোর্টে আস্থা রাখার পরামর্শও দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইয়ামিনকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটেন। মলদ্বীপে ভ্রমণরত নাগরিকদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে চিন, ভারত, আমেরিকা এবং ব্রিটেন।

ইয়ামিনের তরফে অবশ্য এখনও ইতিবাচক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রাক্তন প্রেসি়ডেন্ট আব্দুল গায়ুম কেন গৃহবন্দি— উঠছে প্রশ্ন। একটি সূত্র বলছে, বিরোধীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগেই গৃহবন্দি গায়ুম। তাঁর প্রতি সেনার একটা অংশ এখনও দুর্বল। তাই এখনও গ্রেফতার করা হয়নি তাঁকে। আজই একটি অনলাইন-ভিডিওতে গায়ুম বলেন, ‘‘পরোয়ানা জারি হওয়ার মতো আমি কিছুই করিনি।’’