মঞ্চে অভিনয় করা তাঁর পেশা। কিন্তু কারও ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজি হননি তিনি। আর সেই ‘অপরাধে’ খুন হতে হল পাকিস্তানের জনপ্রিয় পাস্তো অভিনেত্রী সামবুল খানকে।

ঘটনা কাল রাতের। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের শেখ মালতুন শহরে থাকতেন সামবুল। পুলিশ জানিয়েছে, কাল তিন ব্যক্তি তাঁর বাড়ি এসে তাঁদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে। সামবুল রাজি না হওয়ায় তাঁকে গুলি করে সেখান থেকে পালিয়ে যায় তারা। নিকটবর্তী মরদান মেডিক্যাল কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশ জানিয়েছে, ওই অভিনেত্রীর আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগে মারা যান তিনি।

অভিনেত্রীর দাদু, আমির বাহাদরের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তবে তারা সকলেই পলাতক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দু’জনের পরিচয় জানা গিয়েছে। তাদের মধ্যে জন এক পাক পুলিশেরই প্রাক্তন কর্মী ছিল। নাম নইম। অন্য জনের নাম জাহাঙ্গির খান। পুলিশের খাতায় আগেও নাম উঠেছিল তার।

নিজেরই প্রাক্তন স্ত্রী আর তাঁর বাবাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ছিল জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে। তার প্রাক্তন স্ত্রী গাজালা জাভেদ জনপ্রিয় পাস্তো গায়িকা ছিলেন। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গিরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে কয়েক মাসের মধ্যেই বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন। ২০১৩ সালে মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হন গাজালা ও তাঁর বাবা।

সোয়াট উপত্যকার জেলা ও দায়রা আদালত এই জোড়া খুনের ঘটনায় জাহাঙ্গিরকে দোষী সাব্যস্ত করে দু’দফা প্রাণদণ্ড আর সাত কোটি টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়। কিন্তু পরে ২০১৪ সালে পোশোয়ার হাইকোর্ট তাকে মুক্তি দেয়। পুলিশ জানিয়েছিল, গাজালার পরিবার জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেয়।

তবে শুধু সামবুল বা গাজালাই নন। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে গায়িকা বা অভিনেত্রী খুনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। বছর চারেক আগে আর এক পাস্তো গায়িকা গুলনাজও খুন হয়েছিলেন পেশোয়ারে। ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই গুলনাজকে মারা হয়েছে বলে সে বারও দাবি করেছিল পুলিশ।