হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল পাকিস্তান। মুম্বই হামলার মূল চক্রী হিসেবে অভিযুক্ত সইদের তিনটি সংগঠনকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার উপর ইসলামাবাদ নিষেধাজ্ঞা জারি করল।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ হাফিজ সইদকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করেছে এবং তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে্। হাফিজ সইদের তিন সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা, জামাত-উদ-দাওয়া এবং ফালাহ-এ-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশনও নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। ওই তিন সংগঠনের বিরুদ্ধেই এ বার পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রক পদক্ষেপ করল। মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘সিকিওরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অব পাকিস্তান (এসইসিপি) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ওই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদ যে সব ব্যক্তি ও সংস্থাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, কোনও কোম্পানি যেন তাদের অনুদান না দেয়। নির্দেশ না মানলে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ইসলামাবাদ সূত্রের খবর, দাতব্য প্রতিষ্ঠানের নামে যে সব সংগঠন হাফিজ সইদ চালাচ্ছে, সেই সব প্রতিষ্ঠনের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের সরকার নিজের হাতে নিতে চাইছে। সেই অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ গত ১৯ ডিসেম্বরই বিভিন্ন প্রাদেশিক সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। হাফিজের সংগঠনকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞাও ওই দিনই জারি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: আর বরদাস্ত নয় পাক মিথ্যাচার: চরম বার্তা ট্রাম্পের

আরও পড়ুন: চিন সব আন্তর্জাতিক ইস্যুতে হস্তক্ষেপে প্রস্তুত, বার্তা শিয়ের

হাফিজ সইদের সংগঠনগুলি পাকিস্তানে প্রায় ৩০০ স্কুল এবং মাদ্রাসা চালায়। বেশ কিছু হাসপাতাল চালায়, অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালায়, একটি প্রকাশনা সংস্থাও চালায়। জামাত-উদ-দাওয়া এবং ফালাহ-এ-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশনের প্রায় ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে বলে পাক প্রশাসনিক সূত্র থেকেই জানা যায়। ওই সব সংগঠনের বেতনভুক কর্মচারীর সংখ্যাও খুব কম নয়।

হাফিজ সইদের সংগঠন যথেষ্ট প্রভাবশালী পাকিস্তানে। তাই প্রকাশ্য ঘোষণার মাধ্যমে পাক সরকার পদক্ষেপ করতে চাইছে না বলে খবর। প্রাদেশিক সরকারগুলির কাছে যে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, তা-ও একটি গোপন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।