চার দিন ধরে আতঙ্ক সেই তিমিরেই। মায়ানমারের উত্তরে রাখাইন প্রদেশ ছেড়ে বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন শয়ে শয়ে মানুষ। সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ১০৪। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এই দুর্দশায় চিন্তিত আন্তর্জাতিক নানা সম্প্রদায়। সোমবার ভ্যাটিক্যানের তরফে জানানো হয়েছে, নভেম্বরের শেষে মায়ানমার সফরে যাবেন পোপ ফ্রান্সিস। তার পরে বাংলাদেশেও যাওয়ার কথা রয়েছে পোপের। তবে মায়ানমার বা পূর্বতন বর্মায় এই প্রথম পা পড়তে চলেছে কোনও পোপের।

না আছে নাগরিকত্ব। না আছে ঘর। উত্তর-পশ্চিম মায়ানমারে বহু বছর বৈষম্যের শিকার রোহিঙ্গাদের সঙ্কট নিয়ে পোপ ফ্রান্সিস গোড়া থেকেই সরব। যদিও মায়ানমারের বৌদ্ধদের চোখে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী। গত শুক্রবার থেকে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা ‘বিদ্রোহী’দের সঙ্গে মায়ানমার সেনার সংঘর্ষ মারাত্মক আকার নিয়েছে। গত কাল জানা যায়, মৃতের সংখ্যা একশো ছুঁতে চলেছে। তার পরেই এক বিবৃতিতে রবিবার পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা ভাইদের মতো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে নির্যাতনের ঘটনা পীড়াদায়ক। ওঁদের পাশে আছি। ঈশ্বর ওঁদের রক্ষা করুন। রোহিঙ্গাদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে সক্রিয় হোন সবাই।’’

আরও পড়ুন: আমেরিকার সঙ্গে প্রকাশ্যে টানাপড়েন পাকিস্তানের

গত বছর অক্টোবরে ছোটখাটো ভাবে হলেও রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল। যা নিয়ন্ত্রণে ভয়ঙ্কর সেনা অভিযান হয় এবং তা নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে। তা নিয়ে টুঁ শব্দ না করায় নোবেল শান্তি-পুরস্কার জয়ী মায়ানমারের অন্যতম নেত্রী আউং সান সু চি সেই সময় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। দেশের মোটামুটি ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয়-সঙ্কট সু চি-র কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। গত শুক্রবার ফের বন্দুক, ছুরি, লাঠি এবং হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে নামার অভিযোগ ওঠে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। ৩০টি থানা এবং একটি সেনা ঘাঁটিতে রোহিঙ্গারা চড়াও হয়েছে শুনে তার নিন্দা করেন সু চি। এ বারও তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আপাতত বাংলাদেশে ঢুকে আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করলেও কিছু শরণার্থীর দাবি, সে দেশের পুলিশ হুমকি দিচ্ছে আর নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দেওয়া হবে না। ভারত থেকেও তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় মানবাধিকার সংগঠনগুলিকে বিঁধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, ‘‘ভারত বরাবরই মানবিক। বহু শরণার্থীর বাস এখানে। তাই আপনারা বক্তৃতা দেবেন না। আমাদের খারাপ চোখে দেখানোর চেষ্টাও করবেন না।’’ রিজিজুর দাবি, ভারতে এলে রোহিঙ্গাদের কেউ সমুদ্রে ছুড়ে ফেলবে না বা গুলি করে মারবে না। কিন্তু নিয়ম মেনে তাঁদের এ দেশে ঢুকতে হবে।