চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হল তাইওয়ান নৌসেনায়। হামলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করল ফাইটার জেটগুলি। চিনা এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার তাইওয়ানের খুব কাছে পৌঁছে যাওয়ার পরই এই তৎপরতা শুরু হয়েছে স্বশাসিত দ্বীপটিতে। যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

চিনা এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার লিওয়ানিং-সহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ দক্ষিণ চিন সাগর থেকে তাইওয়ান প্রণালীতে ঢুকে পড়ার পরই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জারি হয়েছে তাইওয়ানের নৌসেনায়। চিন এবং তাইওয়ানের মধ্যে তিক্ততা দীর্ঘ দিনের। চিনের মূল ভূখণ্ডে কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও মাও জে দং-এর বাহিনী তাইওয়ানের দখল নিতে পারেনি। মূল ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত শাসকরা তাইওয়ানের দখল ধরে রেখেছিলেন এবং সেখানে এখনও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাই চলছে। বেজিং অবশ্য তাইপেই-এর সার্বভৌমত্বকে কোনও দিনই স্বীকৃতি দেয়নি। সময় মতো তাইওয়ানকেও কমিউনিস্ট শাসনের আওতায় আনা হবে বলে বেজিং বরাবর জানিয়ে এসেছে। আর তাইওয়ান চির কালই নিজেদের স্বাধীন বলে দাবি করে এসেছে। চিন-তাইওয়ানের এই দীর্ঘকালীন তিক্ততা আরও বেড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের ফোনালাপের পর। তাইওয়ানকে চিন যে হেতু সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, সে হেতু আমেরিকা বা অন্য কোনও দেশেরই তাইওয়ানের সঙ্গে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখা উচিত নয়, দাবি বেজিং-এর। কিন্তু ট্রাম্প দীর্ঘ দিনের সেই পরম্পরা ভেঙে এবং চিনের হুঁশিয়ারি নস্যাৎ করে তাইওয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে চিন এবং আমেরিকার মধ্যে তিক্ততা বাড়ার পাশাপাশি, চিন-তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনাও আচমকা বাড়তে শুরু করেছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই তাইওয়ান প্রণালীতে ঢুকেছে চিনা এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার। বিষয়টিকে একেবারেই হালকা ভাবে দেখছে না তাইপেই। দ্রুত তৎপরতা শুরু হয়েছে নৌসেনায়। তাইওয়ানের যুদ্ধবিমানগুলি আকাশপথে চিনা নৌ-বহরের উপর নজরদারিও শুরু করে দিয়েছে।

চিন-তাইওয়ানের মধ্যবর্তী এই সঙ্কীর্ণ জলভাগে এখন উত্তেজনা তুঙ্গে।

তাইপেই সূত্রের খবর, চিনা এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার বা তার সঙ্গে থাকা অন্য রণতরীগুলি তাইওয়ানের জলসীমা লঙ্ঘন করেনি। কিন্তু দক্ষিণ চিন সাগরে মহড়া সেরে পূর্ব চিনের কোনও বন্দরে ফেরার পথে চিনা নৌ-বহর যখন তাইওয়ান প্রণালীতে ঢুকেছে, তখন তারা প্রণালীর দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে তাইওয়ানের এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন বা আকাশসীমা প্রতিরক্ষার জন্য চিহ্নিত এলাকার মধ্যে ঢুকে পড়ে।

আরও পড়ুন: আদৌ কোনও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি পাকিস্তান, ভুয়ো ভিডিও, দাবি বিশেষজ্ঞদের

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র চেন চুং-চি জানিয়েছেন, এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন লঙ্ঘিত হওয়া মাত্রই তাইওয়ানের নৌসেনা চূড়ান্ত তৎপর হয়ে উঠেছে। তাইওয়ানের যুদ্ধবিমানগুলি তাইওয়ান প্রণালীর আকাশে উড়তে শুরু করেছে। যত ক্ষণ না চিনা যুদ্ধজাহাজগুলি ওই জলভাগ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, তত ক্ষণই ফাইটার জেটগুলি নজরদারি চালাবে। তাইওয়ানের জলসীমা ঘিরে সে দেশের নৌসেনা যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন করে দিয়েছে।

চিনা এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার এবং অন্য যুদ্ধজাহাজগুলি দক্ষিণ চিন সাগরে মহড়া দিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে আবার পূর্ব চিনের নৌঘাঁটিতে ফিরছে তারা। তাইওয়ান প্রণালী হয়ে তাদের এই প্রত্যাবর্তন অস্বাভাবিকও নয়। কিন্তু চিনা যুদ্ধজাহাজগুলি তাইওয়ানের জলসীমার খুব কাছাকাছি চলে যাওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা নয়।

অনিচ্ছাকৃত ভাবেই চিনা যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান উপকূলের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, এমনটা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশারদরা মনে করছেন না। তাঁরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কথা হওয়ার পর তাইপেই-এর উপর চাপ বাড়াতে চাইছে বেজিং। সেই কারণেই নাকি ইচ্ছাকৃত চিনা নৌ-বহর তাইওয়ানের এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন লঙ্ঘন করেছে।