সম্ভাবনা উঁকি মারতে শুরু করেছিল শনিবার থেকেই। শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবে পরিণত করে  নাটকীয় ভাবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শততম টেস্টে জয় পেল বাংলাদেশ। যার ফলে সিরিজ শেষ হল ১-১।

এর আগে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড ছিল শততম টেস্টে জেতার। এ বার সেই ক্লাবে ঢুকে পড়ল বাংলাদেশও। শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্টে এটি প্রথম জয় বাংলাদেশের।  এ দিন মুশফিকুর রহিমের দল ম্যাচ জিতল চার উইকেটে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৫ বলে ঝলমলে ৮২ রান করে ম্যাচের সেরা তামিম ইকবাল।

টেস্টে এর আগে রান তাড়া করে দু’বার জিতেছে বাংলাদেশ। দু’বার পরাজিত দেশ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবোয়ে।

জিততে গেলে ১৯১ রান দরকার এই পরিস্থিতিতে খেলতে নেমে এ দিন শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। রঙ্গনা হেরাথ-এর (৩-৭৫) বলে আট ওভারের মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বাংলাদেশের দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার (১০) এবং ইমরুল কায়েশ (০)। স্কোরবোর্ডে তখন বাংলাদেশের রান ২২-২। এই অবস্থা থেকেই দলকে জয়ের দিকে টেনে নিয়ে যায় তামিম ইকবালের দাপুটে ব্যাটিং।

লাঞ্চে বাংলাদেশের রান ছিল ৩৮-২। এর পরেই শ্রীলঙ্কার বোলারদের বিরুদ্ধে নিজেদের ছন্দে ফেরেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। সাব্বির রহমানের (৭৬ বলে ৪১ রান) জুটি বেঁধে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল করেন তামিম। দু’জনের জুটিতে ওঠে ১০৯ রান। যদিও জয়ের ৬০ রান আগেই দিলরুয়ান পেরেরার (৩-৫৯) বলে লং অনে দীনেশ চান্ডিমলকে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলয়নে ফেরেন তামিম ইকবাল। এর কিছু পরে সাব্বিরকেও আউট করে বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসার চেষ্টা করেছিল রঙ্গনা হেরাথের দল। কিন্তু সেই চাপ কাটিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম (অপরাজিত ২২) এবং সাকিব আল হাসান (১৫)। চা পানের বিরতির পর ফের ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।  দ্রুত ১৬২-৫ হয়ে যায় তারা। নড়েচড়ে বসেন পি সারা ওভালে হাজির শ্রীলঙ্কার সমর্থকরাও।

এর পরেই শুরু সেই নাটকীয় পরিস্থিতি। দিলরুয়ান পেরেরার বলে মুশফিকুর রহিমের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কা এলবিডব্লিউ-এর আবেদন করলে আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার এস রবি। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান মুশফিকুর। এর কিছু পরেই জয়ের দোরগড়ায় এসে আউট হয়ে যান মোসাদ্দেক হোসেন (১৩)। যদিও টেনশন সরিয়ে মেহেদি হাসান মিরাজকে সঙ্গী করে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন মুশফিকুর।

এর আগে দিনের শুরুতে আগের দিনের দুই অপরাজিত শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান দিলরুয়ান পেরেরা (৫০) এবং সুরঙ্গা লাকমল (৪২) আগের দিনের ১৩৯ রানের সঙ্গে আরও ৫১ রান যোগ করে দিয়ে যান।