কতটা পথ পেরোলে পথিক হওয়া যায়, ঋদ্ধিমান সাহা হয়তো জানেন না।

কিন্তু ক্রিকেট মাঠে কতটা লড়লে অসাধ্য সাধন করা যায়, তা ভালই জানেন। রাঁচী টেস্টে তো সেই লড়াইটাই লড়লেন আজ।

শিলিগুড়ির শক্তিগড়ের বাড়ি থেকে কলকাতার সাউথ সিটির আকাশছোঁয়া ডুপ্লে ফ্ল্যাটে তাঁর উঠে আসার লড়াইটা সবাই না-ও জানতে পারে। কিন্তু রবিবার মহেন্দ্র সিংহ ধোনির শহরে ঋদ্ধি যে ভাবে চেতেশ্বর পূজারাকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় সারা দিন অস্ট্রেলিয়ার ধূর্ত বোলারদের সামলালেন, যে ভাবে দেশকে বিপদসীমা থেকে সরিয়ে এনে দাঁড় করালেন জয়ের মুখে, সে লড়াই তো অদেখা রইল না ক্রিকেটবিশ্বের!

ঋদ্ধি নিজেই বলছেন, আট নম্বরে নেমে আজকের ১১৭ তাঁর সেরা টেস্ট সেঞ্চুরি। অথচ এ-ও বলছেন, ‘‘ব্যাটিংয়ে তেমন উন্নতি হয়নি। আসলে এখন সাহস অনেক বেড়েছে। অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে সুইপ বা স্টেপ আউট করে চার-ছয় মারি। আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে আমার দলই।’’

আরও পড়ুন: টেস্টে বাঙালির সেরার তালিকায় ঋদ্ধিমানের সেঞ্চুরি

চেতেশ্বর পূজারা ও ঋদ্ধিমান সাহা। ছবি: রয়টার্স।

দল? নাকি অধিনায়ক বিরাট কোহালি? যিনি সরাসরি বলে দিয়েছিলেন, ‘‘ঋদ্ধিই আমার দলের এক নম্বর কিপার।’’ পার্থিব পটেলের ব্যাটে রান সত্ত্বেও চোট সারিয়ে ঋদ্ধিকে ভারতীয় দলে ফিরিয়েছিলেন কোহালিই। সেই ঋণ যেন রবিবার চুকিয়ে দিলেন ঋদ্ধি। এ বছর ইরানি ট্রফিতে পূজারার সঙ্গেই ছিল তাঁর ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৩১৬-র পার্টনারশিপ। ঋদ্ধি জানালেন, সেই অভিজ্ঞতাও কাজে লেগেছে আজ।

আধুনিক ক্রিকেটে কিপার-ব্যাটসম্যানের কার্যকরিতা যেখানে বেশি, সেখানে তিনিই কি ভারতসেরা? সন্ধ্যায় বেঙ্গালুরু থেকে ফোনে সৈয়দ কিরমানি বললেন, ‘‘হয়তো এখনই নয়। তবে ভবিষ্যতের সেরাকে দেখছি ওর মধ্যে।’’