ছত্রিশতম জন্মদিন পালন থেকে পাঁচ মাস দূরে তিনি। কয়েক দিন আগেও পন্ডিতরা লিখে দিয়েছিলেন, তিনি ফুরিয়ে গিয়েছেন।

সকলকে ভুল প্রমাণ করে রজার ফেডেরারের রথ দৌড়চ্ছে। প্রায় ছত্রিশ বছর বয়সেও তারুণ্যের ছোঁয়া নবজাগরণ ঘটা তাঁর টেনিসে। রাফায়েল নাদালকে হারিয়ে অস্ট্রেলীয় ওপেন জেতার পর এ বার স্বদেশী, বয়সে পাঁচ বছরের ছোট স্ট্যান ওয়ারিঙ্কাকে হারিয়ে জিতলেন ইন্ডিয়ান ওয়েলস খেতাব।

রেকর্ড পঞ্চম বার এই ট্রফি জিতলেন ফেডেরার। এবং, কী পরিবেশে? না, ৩৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় লড়তে হল এক ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে। তাতে ‘বুড়ো’ ফেডেরারের চেয়ে বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন বোধ হয় অনুজ ওয়ারিঙ্কা। যিনি ফাইনাল হেরে গিয়ে কেঁদে ফেললেন। আবেগপূর্ণ ভাবে এর পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মজা করে ফেডেরারকে গালাগালও দিয়ে ফেললেন হতাশা বোঝানোর জন্য। ‘‘আমি রজারকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমাকে হারিয়ে ও হেসে চলেছে। ও আসলে একটা ....।’’

প্রচুর চেষ্টা করেও যে ফেডেরারকে হারানো যায় না, সেটাই বোঝাতে চাইলেন ওয়ারিঙ্কা। তাঁর কথা শুনে তখন পুরো গ্যালারি হাসছে। ফেডেরারও হাসছেন। ওয়ারিঙ্কা বলে চলেন, ‘‘আমি বেশ কয়েকটা কঠিন ম্যাচ তোমার কাছে হেরেছি। কিন্তু তুমি যে দিন অস্ট্রেলীয় ওপেনে ফাইনালটা খেলছিলে, সে দিন আমি তোমার সব চেয়ে বড় ভক্ত ছিলাম। অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের জন্য অভিনন্দন।’’ পরাজিত ওয়ারিঙ্কাকে তখন সত্যিই রজার-ভক্ত মনে হচ্ছে। ‘‘যে কেউ টেনিস দেখতে ভালবাসে, তোমাকে দেখতে চাইবে। তাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে তোমাকে ফিরতে দেখাটা সত্যিই প্রাপ্তি ছিল।’’ রজার-বন্দনা করছেন ওয়ারিঙ্কা আর হাত দিয়ে চোখের জল মুছছেন।

খেতাব জিতে ভেসনিনা।

খেতাব জিতে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে উঠে এলেন ফেডেরার। ওয়ারিঙ্কার বিরল মন্তব্য নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘স্ট্যান যখন আমার দিকে তাকাল, চেষ্টা করেছিলাম দুঃখ মেশানো মুখ না দেখাতে। তাই হেসে ফেলি। হারের থেকে ওর মনটা সরিয়ে নিতেই সেটা করেছিলাম।’’ আর ওয়ারিঙ্কার গালাগাল? ফাইনালে ৬-৪, ৭-৫ জিতে ওঠা ফেডেরার বলে ওঠেন, ‘‘স্ট্যানের এমন গালি আমি অনেক শুনেছি জীবনে। তাই ওটাকে প্রশংসাসূচক মন্তব্য হিসেবেই নিচ্ছি।’’  

চ্যাম্পিয়ন ভেসনিনা: ইন্ডিয়ান ওয়েলসে মহিলাদের সিঙ্গলসে চ্যাম্পিয়ন হলেন  এলেনা ভেসনিনা। ফাইনালে শ্বেতলানা কুজনেৎসোভা-কে হারালেন ভেসনিনা। তিন সেটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে প্রথম সেট ৭-৬(৮-৬) জেতেন কুজনেৎসোভা। দ্বিতীয় সেটে ফর্ম ফিরে পেয়ে ৭-৫ জেতেন ভেজনিনা। ম্যাচ গড়ায় তৃতীয় সেটে। তিন ঘণ্টার ম্যাচে তৃতীয় সেট ৬-৪ জিতে চ্যাম্পিয়ন ভেসনিনা। ম্যাচ শেষে ভেসনিনা বলছেন, ‘‘রুশ টেনিসের জন্য খুব বড় একটা দিন ছিল। ফাইনালটা দারুণ হয়েছে।’’

এক বছর আগে প্রথম রাউন্ডে ছিটকে গিয়েছিলেন ভেসনিনা। এ দিন চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভেসনিনা যোগ করেন, ‘‘মুহূর্তটা বিশ্বাসই হচ্ছে না আমার। টেিনস জিনিসটাই এ রকম। গত বছর প্রথম রাউন্ডে হারের পর এ বার চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে দারুণ লাগছে। অনেকে যারা ভাবে প্রথম রাউন্ডে ছিটকে গেলেই কেরিয়ার শেষ, আমার মনে হয় তারা আমার এই জয় থেকে অনুপ্রেরণা পাবে।’’