ফুটবলে দুরন্ত জয়ের দিনেই ক্রিকেটে স্বপ্নভঙ্গ বাংলার।

বিজয় হজারে ট্রফির ফাইনালে তামিলনাড়ুর কাছে ৩৭ রানে হেরে গেল মনোজ তিওয়ারির বাংলা। এ নিয়ে তিন বার ফাইনালে বাংলা হারল বিজয় হজারে ট্রফিতে। তিন বারই প্রতিপক্ষ ছিল তামিলনাড়ু।

সোমবার দিল্লির ফিরোজ শা কোটলায় টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় তামিলনাড়ু। কিন্তু বাংলার দুই পেসার মহম্মদ শামি ও অশোক ডিন্ডার দাপটে ৪৯ রানেই ৪ উইকেট পড়ে যায় তামিলনাড়ুর। ৮.২ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন শামি। যদিও শামির উইকেটগুলি বেশিরভাগই শেষের দিকে। শুরুতে বেশি ভয়ঙ্কর ছিলেন অশোক ডিন্ডা। ৯ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ডিন্ডা।

তবে ডিন্ডা-শামির আগুন সামলে  তামিলনাড়ুর হাল ধরেন দীনেশ কার্তিক। ১২০ বলে ১১২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন জাতীয় দলের প্রাক্তন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। সেই সঙ্গে বিজয় হজারে ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের (৬০৭) নতুন কীর্তিও গড়লেন কার্তিক। তামিলনাড়ুর হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান বাবা ইন্দ্রজিতের (৩২)। ৪৭.২ ওভারে ২১৭ রানে শেষ হয়ে যায় তামিলনাড়ুর ইনিংস। 

ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলা। ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করে বাংলাকে জেতানো দুই ব্যাটসম্যান অভিমন্যু ঈশ্বরন ও শ্রীবৎস গোস্বামী এ দিন ব্যর্থ। ১ রানে আউট হন অভিমন্যু। আর রাহিল শাহ-র বলে বিজয় শেখরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শ্রীবৎস গোস্বামী (২৩)।

আরও পড়ুন: ঋদ্ধির প্রশংসা মাহি, বিরাটের

 

খুবই মন্থর গতিতে ব্যাট করতে থাকেন দুই ওপেনার। যা নিয়ে ম্যাচের পরে সমালোচনা করেন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি। বলেন, ‘‘জানি না না ওদের মাথায় কী চলছিল। এত মন্থর ব্যাটিংয়ের কোনও ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছি না। ৭ ওভারে মাত্র ৭ রান তুলেছিল ওরা।’’ বাংলাকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক মনোজ ও সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। দু’জনে ভাল পার্টনারশিপ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু ৩২ রান করে পুল মারতে গিয়ে নিচু হয়ে যাওয়া বলে বোল্ড হয়ে যান মনোজ। তার পর বাংলার আশা আর খুব একটা বেঁচে ছিল না। সুদীপ করেন ৫৮। ৪৫.৫ ওভারে ১৮০ রানেই শেষ হয়ে যায় বাংলার ইনিংস। দুর্দান্ত জয়ের পর উচ্ছ্বসিত দীনেশ কার্তিক বলেছেন, ‘‘নিজের ব্যাটিং নিয়ে আমি সব সময়ই আত্মবিশ্বাসী। প্রত্যেকটা ম্যাচেই ছন্দ ধরে রাখার চেষ্টা করি।’’ এই মুহূর্তে যে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন। দীনেশ বলেছেন, ‘‘আমি সব সময়ই জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখি।’’

এ দিকে, দিল্লিতে খেলেই ধর্মশালা রওনা হয়ে যাচ্ছেন মহম্মদ শামি। তাঁর ফিটনেস দেখে জাতীয় নির্বাচকেরা খুশি বলেই জানা গিয়েছে। সম্ভবত ধর্মশালায় সিরিজ ফয়সালার টেস্টে শামিকে খেলানো হবে।