আমি আগেও কথাটা বলেছি। চেতেশ্বর পূজারাকে ওর স্ট্রাইক রেট দিয়ে সব সময় বিচার করতে যাওয়াটা ঠিক হবে না। বেঙ্গালুরুতে ওর অসাধারণ ইনিংসের জন্যই কিন্তু ভারতীয় দল সিরিজে ফিরেছিল। তিন নম্বরে পূজারা খুব পোক্ত এক জন ব্যাটসম্যান। ওর টেকনিক, জমাট ডিফেন্স দলের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

অস্ট্রেলিয়ার এই দলে চলতি সিরিজে স্পিনাররা খুব বড় ভূমিকা নিয়েছে। ভারত সফরে এসে প্রথম দিনেই কখনও কোনও বিদেশি স্পিনারকে আট উইকেট তুলে নিতে দেখা যায়নি। অস্ট্রেলীয় স্পিনাররা কিন্তু মাঝে মাঝেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলতে পারে। এই সিরিজে পিচ নিয়ে প্রচুর কথা হয়েছে। পুণে এবং বেঙ্গালুরুতে ঘূর্ণি উইকেট ছিল। তবে আমার মনেই হয়েছিল রাঁচীতে ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ কিছুটা সাহায্য থাকবে।

তবে অস্ট্রেলীয় স্পিনারদের জন্যই টস গুরুত্বপূর্ণ হতেই থাকবে। যে হেতু অস্ট্রেলীয় স্পিনাররা ভাল বল করেছে, শেষ ইনিংসে ওদের খেলাটা সমস্যা হতে পারে। এই পরিস্থিতিটা কিন্তু ইংল্যান্ড বা নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ভারতকে মোকাবিলা করতে হয়নি। তার কারণ ইংল্যান্ড বা নিউজিল্যান্ডের হাতে তেমন বড় মাপের স্পিনার ছিল না।

দু’দলের মধ্যে উত্তেজনাও ছড়িয়েছে খুব। তবে দু’দেশের বোর্ডকে কৃতিত্ব দিতে হবে যে ভাবে ওরা পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে। বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় টেস্টে বেশ অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিই হয়ে গিয়েছিল। দু’দেশের বোর্ড পরিণতি বোধ দেখিয়ে আগুনকে বাড়তে দেয়নি। ওই সময়ে এমন পরিণত আচরণ করা খুব দরকার ছিল। না হলে ক্রমশ যেন বিতর্ক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছিল। ক্রিকেটারদের মধ্যে যে সব কথার যুদ্ধ চলছে, সেগুলো নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই। এটুকু চলতে দেওয়া যেতেই পারে।

মিচেল স্টার্ক না থাকায় আদতে ভারতেই ক্ষতি হয়েছে। স্টার্ক বাঁ হাতি বলে ওর ফুটমার্ক থেকে পিচের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বড় বড় ক্ষত হয়। সেখান থেকে ফায়দা তুলছিল ভারতীয় স্পিনাররা। সেটা রাঁচীতে হল না।