শীতকালে আমরা অনেকেই পোষ্যদেরও সোয়েটার, উইন্টার কোট পরাই। মনে করি আমাদের ঠান্ডা লাগছে বলে ওদেরও শীত করছে। বাইরে নিয়ে বেরোলে পোষ্যকেও কোট পরিয়ে দিই। কিন্তু সত্যিই কি ওদের কোট পরানোর প্রয়োজন রয়েছে? এতে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে? জেনে নিন।

শীতকালে পোষ্যকে বাইরে হাঁটতে নিয়ে গেলে ওদেরকে কোট পরাবেন না। বাতাসে অনেক প্যারাসাইট থাকে যা কুকুরদের ত্বকের সঙ্গে আটকে যায়। যদি কোট পরান তা হলে এই সব জীবানু ওদের লোমে আটকে গিয়ে শরীর খারাপ হতে পারে। অন্য দিকে, কোট পরানো শুরু করলে শরীরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে কুকুরদের ত্বকে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সংক্রমণের প্রবণতা বা়ড়ে। তাই তাপমাত্রা যদি একান্তই মাইনাসে নেমে না যায়, পোষ্যকে কোট পরাবেন না। সকাল, বিকেল ওদের হাঁটতে নিয়ে যান।

কী ভাবে শীতে যত্ন নেবেন পোষ্যদের?

গরমকালে আমরা পোষ্যকে বার বার স্নান করিয়ে পরিষ্কার রাখলেও শীত কালে স্নান করানো সম্ভব হয় না। কিন্তু, শীকে ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে ওদের ত্বকের নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। ১০ দিনে অন্তত এক বার স্নান করান। হাল্কা গরম জলে পশু চিকিত্সকের বলে দেওয়া শ্যাম্পু মিশিয়ে স্নান করিয়ে তোয়ালে দিয়ে শুকনো করে মুছে নিন।

নিজে যখন যা খাবেন, পোষ্যকে তাই খেতে দেবেন না। কুকুরের ডায়েটে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ই ও ক্যালসিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দানা শস্য, সব্জি ও রেড মিট রাখুন কুকুরের ডায়েটে। বেশি পরিমাণে চিকেনও দিতে পারেন। যদি বাড়িতে শুধু নিরামিষ খাওয়ার চল থাকে তাহলে পনির, ডিম, দইয়ের সঙ্গে দিন অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট।

শীতকালে ব্রাশিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জার্মান শেফার্ডস, গোল্ডেন রিট্রিভার, ম্যাসটিফস, বক্সার ব্রিডের কুকুর হলে অবশ্যই নিয়মিত ওদের লোম আঁচড়ে দিন। এতে শরীরে রক্ত সঞ্চালনও ভাল হবে। যদি কুকুরের গায়ে দুর্গন্ধ হয় তা হলে দেরি না করে চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন: গাউটের ব্যথা? ডায়েটে রাখুন ফাইবার