আর পাঁচটা দিনের মতো খেলনা হাতে নয়। শিশু দিবসের গোটাটাই আইসিইউ-তে কাটল ১৮ মাসের শিশুর। বাবার সহকর্মীর হাতে ধর্ষণের জেরে আপাতত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে। ঘটনাটি দক্ষিণ দিল্লির শাহপুর জাট এলাকার। অভিযোগ, দেড় বছরের ওই শিশুটিকে একাধিক বার ধর্ষণ করে স্থানীয় এক যুবক। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

ঠিক কী ঘটেছিল?

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার কাজের সূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলেন শিশুটির মা-বাবা। শাহপুর জাটের বাসিন্দা ওই ব্যক্তির এক সহকর্মী সন্তোষ রাইয়ের কাছে নিজের মেয়েকে রেখে গিয়েছিলেন তাঁরা। পুলিশকে শিশুটির বাবা জানিয়েছেন, সপ্তাহ দুয়েক ধরেই তাঁদের অনুপস্থিতিতে মেয়েকে দেখভাল করছে বছর একুশের সন্তোষ। সোমবারও তাঁর কাছেই মেয়েকে ছেড়ে নিশ্চিন্তে ছিলেন তিনি। পৌনে ৩টে নাগাদ কাজ সেরে বাড়িতে ফিরে আসেন ওই শিশুটির মা। ঘরে ঢুকেই তিনি দেখেন, মেয়ের যৌনাঙ্গ থেকে অত্যধিক রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সে সময় সন্তোষও বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। সন্তোষকেই সন্দেহ হয় তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে একটি ঘরে তালাবন্ধ করে আটকে রাখেন তিনি। এর পর স্বামীকে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানান। একই সঙ্গে থানায়ও ফোন করে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাস্থলে এসে সন্তোষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন

চাপ দিয়ে দোষ কবুল, দাবি ধৃত নাবালকের

যা বলছেন, বুঝে বলছেন তো আদিত্যনাথ?

কালো টাকাই কি ফিরছে লগ্নি হয়ে

ইতিমধ্যে শিশুটির বাবা বাড়িতে এলে তাকে সফদরজঙ্গ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে দুর্ভোগের মুখে পড়েন তাঁরা। ওই শিশুটির বাবার অভিযোগ, “হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাননি। আমরা বার বার বলা সত্ত্বেও ক্ষতস্থানে স্রেফ ব্যান্ডেজ করে দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন।” কিন্তু, বাড়ি ফিরেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফের এক বার ওই হাসপাতালে মেয়েকে নিয়ে যান তাঁরা। এর পর ওই শিশুটির মেডিক্যাল টেস্ট করানো হয়। তাতেই ধরা পড়ে ওই শিশুটিকে একাধিক বার ধর্ষণ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিসিপি (দক্ষিণ) চিন্ময় বিসওয়াল বলেন, “অভিযুক্ত সন্তোষ রাইয়ের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।” মঙ্গলবারই আদালতে তোলা হয় সন্তোষকে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন ওই শিশুটির বাবা। তিনি বলেন, “মেয়ের কাছে যেতেই দিচ্ছে না হাসপাতালের কর্মীরা। আমাকে শুধু জানানো হয়েছে, মেয়ের শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ।” তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।